ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ৩০ আগস্ট

সংগৃহীত ছবি
আর্থিক জালিয়াতি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, সাইবার প্রতারণা ও আর্থিক বিবরণীতে কারসাজি শনাক্ত ও তদন্তের বিষয়ে নতুন একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের চার শিক্ষক যৌথভাবে রচনা করেছেন ‘ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং ও ফ্রড ইনভেস্টিগেশন’ শিরোনামের বইটি। বইটির লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ড. দেওয়ান মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল আলম, অধ্যাপক আল-আমিন এবং সহকারী অধ্যাপক রায়হান সোবহান।
পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন আগামী ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ বিল্ডিংয়ের প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ ফারুক কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট গবেষক ড. রিয়াজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া। সম্মাননীয় অতিথি হিসেবে বইটির ওপর আলোচনা করবেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
লেখকদের দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচনা করা হয়েছে। আধুনিক ব্যবসায়িক পরিবেশে আর্থিক অপরাধ ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিংয়ের গুরুত্বও বাড়ছে। হিসাববিজ্ঞান, তদন্ত দক্ষতা, আইনগত জ্ঞান ও পেশাগত বিচারবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই শাস্ত্রের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিংয়ের প্রকৃতি ও পরিধি, করপোরেট জালিয়াতি এবং আর্নিংস ম্যানেজমেন্টের মতো মৌলিক বিষয় থেকে শুরু করে পনজি স্কিম, অর্থপাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, সরকারি খাতের দুর্নীতি এবং ফরেনসিক তদন্তের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি এবং আধুনিক তদন্তে ডেটা অ্যানালিটিক্সের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারও তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক মূল্যায়ন ও ফরেনসিক রিপোর্টিংয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করায় বইটির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব কেস স্টাডি, বিশ্লেষণী কাঠামো ও পরিস্থিতিনির্ভর প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, যা পাঠকদের আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত, তদন্ত ও প্রতিরোধের বিষয়ে বাস্তব ধারণা দিতে সহায়তা করবে।
লেখকরা জানান, শিক্ষাদান ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে সহজবোধ্য, কাঠামোবদ্ধ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বই তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে বিভিন্ন বই থাকলেও উদীয়মান অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের উপযোগী পাঠ্যসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই বইটি রচনা করা হয়েছে। আর্থিক অপরাধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিংকে আর্থিক অনিয়ম শনাক্তকরণ, তদন্ত ও প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।







