নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃত অন্তত ৯৫

ছবি: রয়টার্স
নেপালের রসুয়ায় আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ৬০ জন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। এ ছাড়া ৩৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি পর্যটকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বন্যায় ১৯টি সেতু ও ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধানকাজও ব্যাহত হচ্ছে।
বুধবার ভোরে নেপালের রসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে নেপাল-চীন সীমান্তের রসুয়াগাধি এলাকার জনবসতি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিব্বতের সঙ্গে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ এখনো শেষ হয়নি। উদ্ধার ও অনুসন্ধানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাজুড়ে বিভিন্ন দলের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
নিখোঁজ ৮৫ নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৪ জন, নেপাল পুলিশের ২৮ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আরও ৬০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বন্যায় যান চলাচলের উপযোগী ১৯টি সেতু এবং ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে চীনের তিব্বতে কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রায় যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক টাচ কৈলাস ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বসু কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, বুধবার ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালের নাগরিক।
তিনি বললেন, ‘কয়েকজন ছাড়া বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমরা তীর্থযাত্রীদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’
নেপালের ট্রেকিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাগর পান্ডে জানিয়েছেন, তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট






