সীতাকুণ্ডে সাঁকো পার হয়ে যেতে হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, নেই জনবল
- চট্টগ্রামের চার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে নেই জনবল
- সিজারিয়ান হয় না, নেই অবেদনবিদ

ছবি: আগামীর সময়
সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ১০ শয্যার মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। আধুনিক যন্ত্রপাতি, সরঞ্জামসহ ২০২৩ সালে এটি হস্তান্তরও করা হয়। কিন্তু এরপর তিন বছর পেরোলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কারণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলেরই অনুমোদন এখনো মেলেনি। আবার ছোট একটি সেতুর অভাবও ভোগাচ্ছে স্থানীয়দের। কেননা এখন সাঁকো পার হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়, যা প্রসূতি ও শিশুদের জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ।
শুধু এটিই নয়, চট্টগ্রামের চারটি মা, শিশুকল্যাণ কেন্দ্র জনবলসহ নানা সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। এর মধ্যে দুটি রাউজানের নোয়াপাড়ার মাস্টারদা সূর্য সেন এবং কদলপুর মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। অন্যটি লোহাগাড়ার চুনতি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। সোনাইছড়িসহ এই চারটি কেন্দ্রের জনবল অনুমোদিত হয়নি এখনো।
চট্টগ্রামে ১৩টি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটির অবস্থান শহরে। বাকিগুলো বিভিন্ন উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে। শহরের তিনটি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রও সেবা দিচ্ছে ঢিমেতালে। এগুলোতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয় না। তবে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চলে। এগুলো হলো পূর্ব বাকিলায়া, কর্নেলহাট এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। মূলত প্রসূতি ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই স্থাপন করা হয়েছিল এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র। জানতে চাইলে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিপ্লব বড়ুয়া আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমাদের চারটি কেন্দ্র জনবল সংকটের কারণে চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। এগুলোর পদ অনুমোদন হয়নি। আমরা লিখেছি।’
সাঁকো পেরিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র: সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কাসেম জুট মিল এলাকায় ২০১৮ সালে একটি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সোনাইছড়ির ত্রিপুরাপাড়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে ১০ শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রায় ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালে এটি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু জনবল এবং যাতায়াত সংকটের কারণে এই কেন্দ্রের সুফল মিলছে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি করা হয়েছে পাহাড়ি এলাকার পাশে। মাঝখানে ফিরিঙ্গীঢালা খাল। এলাকাটির বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর অবস্থান মহাসড়কের পাশে ফিরিঙ্গীঢালা খালের এ পাড়ে। খাল পার হয়ে তাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়, যা পারাপারে ব্যবহার করতে হয় ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে ২০২০ সালে খালটির ওপর একটি সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তখনকার সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। কিন্তু তার কাজ এগোয়নি।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিলুর ইসলাম বললেন, ‘রেলওয়ে জায়গা দেয়নি বলে ২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি করা যায়নি। পরে সেটি সৈয়দপুর এলাকায় হয়। ফলে সেতুর সুফল হাসপাতাল ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন না।’
১০ শয্যার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতিদের নিয়মিত সেবা প্রদান, স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম এবং সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকার কথা। এ ছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং টিকা কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে। তবে তার কিছুই হচ্ছে না জনবল সংকটের কারণে। তিনতলার ভবনটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, রোগীর শয্যা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ কক্ষই থাকে তালাবদ্ধ। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বললেন, ‘মূলত যাতায়াত সমস্যায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এই কেন্দ্রের জন্য ১৩ জনের জনবল এখনো অনুমোদন হয়নি। এখন স্বাস্থ্য সহকারী দুজন সপ্তাহে তিন দিন গিয়ে সেখানে বসেন।’
স্বাভাবিক প্রসবনির্ভর নগরকেন্দ্র: নগরের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র হচ্ছে পূর্ব বাকলিয়া ও কর্নেলহাট এলাকায়। এই দুটি কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চলমান। পূর্ব বাকলিয়ায় অস্ত্রোপচার বা সিজারিয়ান করার ব্যবস্থা থাকলেও তা এখন হচ্ছে না। এখানে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে রয়েছে সুপর্ণা দে। তবে স্থায়ী কোনো অবেদনবিদ না থাকায় এখন সিজারিয়ান হয় না। একজন অবেদনবিদ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও তাকে সবসময় পাওয়া যায় না। তাই মাঝেমধ্যে হয় সিজারিয়ান, কিন্তু মাসে গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি স্বাভাবিক প্রসব হয়।
একইভাবে নগরের কর্নেলহাট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রেও স্বাভাবিক প্রসবকাজ চলে। এখানে সিজারিয়ানের ব্যবস্থা নেই। আগ্রাবাদ কেন্দ্রেও প্রসূতিদের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম চলে।






