রোহিঙ্গাদের সমাবেশ
‘শেষ হতা এক্কান, ফিরত চাই আরকান’

নবম রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের উখিয়ায় নবম রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। সমাবেশে নিজ দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে নাগরিক সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) আয়োজিত সমাবেশে উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অংশ নেন।
সমাবেশের একপর্যায়ে ১০ মিনিট ধরে রোহিঙ্গা ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। ‘শেষ হতা এক্কান, ফিরত চাই আরকান’ অর্থাৎ ‘আমাদের শেষ কথা একটাই, আরকানে ফিরতে চাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সমাবেশস্থল।
সমাবেশে ২০১৭ সালের মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযানে নিহতদের স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি, গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহি এবং নিজ দেশে ফেরার অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বললেন, ‘আমরা ৯ বছর ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত জীবন কাটাচ্ছি। এখন আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই। এ জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আরকান আমাদের। এর চেয়ে বড় কোনো সত্য নেই। মানবিক বিশ্বকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।’
মিয়ানমারে দমন-পীড়নের শিকার কিছু রোহিঙ্গা আগে থেকে বাংলােদেশে ছিল। ২০১৭ সালে রাখাইনে ‘জাতিগত নিধন অভিযান’ শুরু হলে একসঙ্গে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর আরও রোহিঙ্গা আসে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছেন। এই মুসলমান জনগোষ্ঠীকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রত্যাগমন শুরু হয়নি।
সমাবেশে বক্তব্যে ইউসিআরের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য মোহাম্মদ সৈয়দ উল্লাহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি একই সঙ্গে বলেন, তারা নিজেদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান।
তিনি জানান, প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। শুধু সীমান্ত পার করে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দিলেই হবে না। ফিরে যাওয়ার পর নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা ও জীবিকার নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
সমাবেশে বার্মিজ ভাষায় বক্তব্য দেন ইউসিআর নেতা মাস্টার শোয়েব। রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা ভয় ও অনিশ্চয়তা ছাড়া নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারেন।’
বক্তারা জানান, ২০১৭ সালের সহিংসতার ৯ বছর পার হলেও রোহিঙ্গাদের জীবনে সেই ক্ষত এখনো গভীর। স্বজন হারানোর বেদনা, বসতভিটা হারানোর কষ্ট এবং দীর্ঘদিন নিজ দেশে ফিরতে না পারার অনিশ্চয়তা তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
তারা নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি গণহত্যার বিচার ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবসের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।







