জনদুর্ভোগ লাঘবে উদ্যমী তপন

রাস্তা মেরামত করছেন তপন ঘোষ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের তপন ঘোষ। এই তরুণ নিজের টাকা, শ্রম ও সময় ব্যয় করে ভাঙা রাস্তা সংস্কার, নলকূপ ও সাঁকো মেরামত করেন। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতাসহ নানা জনকল্যাণমূলক কাজ করে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।
৩৫ বছর বয়সী তপন ঘোষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের পর গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কয়েক বছর চাকরির পর ২০১৬ সালে গ্রামে ফিরে যুক্ত হন বাবার ব্যবসায়। বর্তমানে উপজেলার বনগ্রাম বাজারে পারিবারিক ‘ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিদিন মানুষের সমস্যা খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করছেন।
তপনের জনসেবার গল্পটা আরও বিস্তৃত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরির মাধ্যমে। তিনি মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে নিজ উদ্যোগে সমস্যার সমাধান করা শুরু করেন। ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাবা নীলকণ্ঠ ঘোষের মৃত্যুর পর মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার সংকল্প নেন তিনি। এরপর প্রতিদিন বিকালে ভ্যান নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করতে থাকেন।
তপনের ভাষায়, ‘যেখানে মানুষের কষ্ট দেখি, সেখানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি। মানুষের মুখের হাসিই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।’
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুরের দিগনগর সেতুর উত্তর পাশে বড় একটি গর্ত সংস্কারের মধ্য দিয়ে তার বড় ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজের শুরু। তপন জানিয়েছেন, তিনি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, নড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, কালভার্টের সংযোগ সড়ক এবং সাঁকো সংস্কার করেছেন। গত এক বছরে আড়াই শতাধিক স্থানে সড়কের বিভিন্ন ধরনের সংস্কারকাজ করার পাশাপাশি মেরামত করেছেন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার নষ্ট নলকূপ।
শুধু অবকাঠামোই নয়, পরিবেশের দিকেও নজর আছে তার। চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আম, জাম, কাঁঠাল, আমলকী, হরীতকী, লটকন, করমচা, লেবু, জামরুলসহ বিভিন্ন ধরনের ফলদ ও ঔষধি গাছের ৫ শতাধিক চারা রোপণ করেছেন তিনি।
তপনের মা কল্যাণী ঘোষ বললেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলে অন্যের উপকার করতে ভালোবাসে। মুকসুদপুরের মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলামের ভাষায়, ‘তপনের মতো যুবকরা যদি এগিয়ে আসে এবং এমন জনহিতকর কাজ করে, তাহলে আমাদের সমাজ আরও এগিয়ে যাবে।’






