নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন বিস্ফোরণে হাত ছিল না ইউক্রেনের, দাবি জেলেনস্কির

২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান থেকে দেখা নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইনের গ্যাস লিকের দৃশ্য। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
রাশিয়া ও জার্মানির মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বিস্ফোরণে ইউক্রেনের কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ ঘটনায় চলমান তদন্তে কিয়েভ সহযোগিতা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় রবিবার কিয়েভে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘নর্ড স্ট্রিম-২ পাইপলাইন বিস্ফোরণের কোনো অভিযানে ইউক্রেন কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি।’
২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পানির নিচে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর নর্ড স্ট্রিম-১ ও নর্ড স্ট্রিম-২ প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় চারটি পাইপের মধ্যে তিনটিতে গ্যাস লিক হয়। এতে পাইপলাইনগুলো অচল হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বর্তমানে দুই ইউক্রেনীয় সন্দেহভাজন জার্মান পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
নর্ড স্ট্রিম-১ ও নর্ড স্ট্রিম-২ হলো ইউরোপ ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা ২৩টি প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনের দুটি। লিকের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটলেও সেগুলো ডেনমার্ক ও সুইডেনের অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ছিল।
রাশিয়া থেকে বাল্টিক সাগর হয়ে জার্মানিতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়। পাইপলাইন দুটির প্রধান মালিক রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানি গ্যাজপ্রম।
বিস্ফোরণের আগে পাইপলাইনগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস ছিল। তবে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে সেগুলো দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল না।
নর্ড স্ট্রিমে লিকের ঘটনা ঘটে পোল্যান্ড ও নরওয়ের নতুন বাল্টিক পাইপলাইন চালুর একদিন আগে। এই পাইপলাইনটি ডেনমার্ক হয়ে উত্তর সাগর থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। নর্ড স্ট্রিমের মতো রাশিয়া থেকে নয়, এই পাইপলাইনে উত্তর সাগর থেকে গ্যাস আসে।
রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানায়। তবে ১৫ সদস্যের পরিষদে মাত্র তিনটি দেশ এর পক্ষে ভোট দেওয়ায় সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়।
ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইডেন আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করে। তিন দেশই বিস্ফোরণকে নিজের দেশের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে।
সুইডেন ও ডেনমার্ক ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের তদন্ত বন্ধ করে দেয়। তবে কে এই ঘটনার জন্য দায়ী, তা শনাক্ত করা যায়নি। জার্মানির তদন্ত চালু রাখে।
জার্মান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বিভিন্ন সংস্থার হয়ে কাজ করা দুই ব্যক্তি এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
সবশেষ জার্মান সরকার পক্ষের আইনজীবীরা ইউক্রেনের সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছেন। তাকে সারহি কে. নামে শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইতালিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জার্মানিতে প্রত্যর্পণ করা হয়।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর হয়ে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছেন।
পেশাদার ডুবুরি ভলোদিমির ঝুরাভলেভকেও আটক করা হয়েছে। তাকে ভ্লাদিমির জেড. নামেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ক্রোয়েশিয়ায় তাকে আটক করা হয়। জার্মানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, পাইপলাইনে পানির নিচে বিস্ফোরক লাগানো ডুবুরিদের একজন ছিলেন তিনি।
ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেছিলেন, হামলার পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নে ইউক্রেনের কোনো সরকারি ভূমিকা ছিল না। তিনি বলেছেন, কিয়েভ ইউরোপীয় তদন্তকারীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে।
পাইপলাইনগুলোর শেষ প্রান্ত মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্নের লুবমিনে হওয়ায় জার্মানি ঘটনাটিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাটি সরাসরি জার্মানির জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষতি করেছে।
হেফাজতে থাকা দুই সন্দেহভাজনই ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স







