যুদ্ধকালীন নির্বাচন ইউক্রেনকে সুনামির মতো ছিন্নভিন্ন করবে : জেলেনস্কি

ভলোদিমির জেলেনস্কি- রয়টার্স
যুদ্ধের মধ্যেই উঠে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, আর সেই আলোচনায় যেন সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুদ্ধের সময় নির্বাচন হলে দেশ ‘সুনামির মতো’ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের নির্বাচনের দাবির পর তার এই মন্তব্যে যুদ্ধকালীন ভোট নিয়ে আরও জোরালো হয়েছে বিতর্ক।
জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, এ ধরনের যুদ্ধে নির্বাচন নিজেই একটি বড় ঝুঁকি। এখন নির্বাচন আয়োজন করা দেশের জন্য সুনামির মতো হবে, যা ইউক্রেনকে ছিন্নভিন্ন করে দেবে।’
সামরিক আইন জারি থাকায় ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়ার সময়ে জনগণের বড় একটি অংশ এখনো এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
জেলেনস্কির ভাষ্য, ‘আমরা যদি দেশকে ধ্বংস করতে চাই, তাহলে এই যুদ্ধের সময়ে নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোতে পারি।’
সাংবাদিকের সঙ্গে শনিবার একটি ব্রিফিং করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে কয়েক মাস পর এটাই ছিল তার প্রথম এমন ব্রিফিং।
সর্বশেষ রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয় জেলেনস্কি তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর। এরপর হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ এ সপ্তাহে আকস্মিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে কোনো রূপরেখা দেননি তিনি। এমনকি তার কিছু সমর্থকও তার অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেন।
বিশেষজ্ঞরা নির্বাচনের পথে নানা বাধার কথা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং রুশ দখল করা এলাকার বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন, সেই প্রশ্ন। পাশাপাশি রাশিয়ার অপতথ্য ছড়ানোর হুমকিও রয়েছে।
কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোশিওলজির এক জরিপ অনুযায়ী, ইউক্রেনের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন হওয়া উচিত।
ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফেদোরভকে নিয়ে একাধিকবার কটাক্ষ করেন।
ফেদোরভ সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, তিনি নিজেই ভুল পথে এগোচ্ছেন—অথবা তাকে সেই পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’
সাবেক এই মন্ত্রী সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব ও তাদের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়।
শুরুতে সাধারণ মানুষ ফেদোরভের পক্ষ নিয়েছিল এবং সেনাপ্রধান ওলেকসান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেছেন, মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ আচরণের বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কবে থেকে বিপণন তাদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল, যারা নিজেদের জীবন দিচ্ছেন?’
রাজনৈতিক সংকটে নিজের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার পর জেলেনস্কি নিজেকে বিভাজনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধক হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, সমাজ ও সেনাসদস্যদের বিভক্ত হওয়া উচিত নয়। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে এই ঝুঁকি রয়েছে—পরিস্থিতি সেই দিকে এগোতে পারে এবং বিপজ্জনক পরিণতি ঘটতে পারে।’
সূত্র : এএফপি







