‘তৌহিদী জনতার’ বাধায় নৌকা বাইচ বন্ধ হবে না : ইউএনও

নৌকা বাইচ
সিলেটের বিয়ানীবাজারে সোনাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে স্থানীয় একদল লোক নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ও বৈঠক করছে। অন্যদিকে, নৌকাবাইচ বন্ধ করা যাবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা-বাহাদুরপুর যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও আগামী ২৮ আগস্ট সোনাই নদীতে বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি এর আগে কোনো বাধার মুখে পড়েনি। তবে এবার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একদল লোক নৌকাবাইচ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি বৈঠক করে প্রতিযোগিতাটি প্রতিরোধের চেষ্টা করছে।
বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকালে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার সংশ্লিষ্টদের ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, নৌকাবাইচ একটি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা। ‘তৌহিদী জনতা’ কিংবা অন্য কারও বাধায় এটি বন্ধ করা যাবে না। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য তিনি লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেন। ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করতে না পারলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাউতা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বললেন, স্থানীয় যুবকরা দীর্ঘদিন ধরে সোনাই নদীতে এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফেসবুকে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করছে। এতে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বললেন, ‘বিষয়টা মীমাংসা করার জন্য ইউএনও আমাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি স্থানীয় মেম্বারকে নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আজ রাতে বিষয়টা যাতে সুন্দরভাবে সমাধান হয়, সেজন্য আবারও দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে বসব। আশা করি বিষয়টা সমাধান হয়ে যাবে।’







