উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে ভাঙা হয় গৃহবধূর দাঁত, কাস্তে গরম করে দেওয়া হয় ছ্যাঁকা

গ্রেপ্তার স্বামী মেহেদী হাসান
জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে মাছুদা বেগমকে (৩৮) পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মেহেদী হাসানের (৪০) বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বছির উদ্দিন কালাই থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় স্বামী মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘প্রায় ২০ বছর আগে কালাইয়ের হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসানের সঙ্গে ক্ষেতলালের দাশড়া গ্রামের মাছুদা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ১২ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মাছুদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন মেহেদী।’
এজাহারে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি মাছুদা তার বাবার বাড়ির ২০ শতক জমি বিক্রি করেন। সেখান থেকে স্বামীকে ১ লাখ টাকা দেন। মেহেদী আরও টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিল মাছুদাকে। এর জেরে গত ১৪ আগস্ট সকালে ঘরের ভেতরে উচ্চশব্দে গান বাজিয়ে মাছুদার হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায় স্বামী। পরে প্লায়ার্স (ধাতব কোনো বস্তু শক্ত করে ধরা বা চাপা দেওয়ার যন্ত্র) দিয়ে তার মুখে আঘাত করলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর কাস্তে গরম করে হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।’
একপর্যায়ে মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রাতে তার মৃত্যু হয়।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্তের পর একমাত্র আসামি মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।







