আর কত ভাঙলে কূল খুঁজে পাবে ভূতেরদিয়া গ্রামের মানুষ

এক সপ্তাহে ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুগন্ধা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৫০ ফুট এলাকা। ছবি: আগামীর সময়
নদীভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, জমি ও গাছপালা। ভাঙন আতঙ্কে বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। কেউ কেউ এখনো নদীর তীর ঘেঁষে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। তবু থামছে না নদীর গ্রাস।
স্থায়ী প্রতিরোধের অপেক্ষায় দিন কাটছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রামের শত শত পরিবারের।
গত শুক্রবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দুই গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ভূতেরদিয়া ও ছানিকেদারপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুগন্ধা নদীতে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহেই গ্রামের অন্তত ৫০ ফুট এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় ভাঙনের প্রবণতা আরও বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় ৩৮০ পরিবারের বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে শেষ সম্বলটুকু রক্ষার চেষ্টা করছেন।
ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে রয়েছে ২২ নম্বর ছানিকেদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মদিনাতুল কোরআন ফজলুল করিম মাদ্রাসা, খন্দকার বাড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও জাবে নূর জামে মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সমাজসেবক ও প্রবাসী মো. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে ভুক্তভোগীরা দিনের পর দিন বিভিন্ন দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে ঘুরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা মূলত আশ্বাসই পেয়েছেন। গ্রাম রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম জানিয়েছেন, একসময় এ গ্রাম ছিল ছায়াঘেরা ও প্রাণবন্ত। বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনে মুখর থাকত পুরো এলাকা। ইউনিয়নের অন্যতম বড় গ্রাম হলেও নদী ভাঙনে এর বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ নদীর তীরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে, আবার কেউ দূরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
কেদারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. কাওছার হোসেন জানিয়েছেন, নদী ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা অনুরোধ করেছেন। বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করছেন তিনি।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, গ্রামটি রক্ষায় এরইমধ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বাবুগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এরইমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাবুগঞ্জ উপজেলাকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।







