রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে আহত পাইলট, বিদেশি জাহাজ আটক

‘বক্স এনডেভার’ জাহাজ থেকে মই বেয়ে নিচে নামার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান আ জ ম রবিউজ্জামান। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে একটি বিদেশি জাহাজ থেকে পড়ে বন্দরের নিজস্ব পাইলট আহত হয়েছেন। ‘বক্স এনডেভার’ জাহাজ থেকে মই (ল্যাডার) বেয়ে নিচে নামার সময় রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে যান তিনি।
গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম ক্যাপ্টেন আ জ ম রবিউজ্জামান।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজের পাশে থাকা বোটে না পড়ে গভীর সাগরে পড়ে গেলে রবিউজ্জামানের মৃত্যুঝুঁকি ছিল। সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। ডান হাতে ও পিঠে আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাকে বন্দর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর জাহাজটি আটক করে বন্দরের বহির্নোঙরে চার্লি অ্যাংকরেজে নোঙর করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার বহির্নোঙর থেকে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। এ ঘটনায় দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে তদন্ত শুরু করেছেন তারা।
অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে এমন কিছু ক্লু উদঘাটিত হয়েছে, সেগুলো রিপোর্টে না এনেই জাহাজটি বন্দর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবির চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন জহিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি।
তদন্ত কমিটির অভিযোগ, জাহাজের ব্রিজে উঠার জন্য রাখা মইটি জাহাজের সঙ্গে রশি দিয়ে ঠিকভাবে না বাঁধার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রবিউজ্জামান রশি ধরে নিচে নামার সময় ডানপাশের রশি ছিঁড়ে যায়। এতে তিনি নিচে পড়ে যান। নিম্নমানের বা পুরনো দড়ি ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রধান ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানিয়েছেন, রশিটি আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাঁধা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জাহাজটি পুনরায় যাত্রা শুরু করতে হলে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের অনুমতি সনদ নতুন করে নিতে হবে।
দুই বছর আগে বন্দরের একজন পাইলট বিদেশি জাহাজ থেকে মই বেয়ে নামার সময় একইভাবে দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে গিয়েও চিকিৎসা করেছেন। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। ইনজুরির কারণে বড় জাহাজ চালাতে পারছেন না। পাননি কোনো ক্ষতিপূরণও।
বিদেশি জাহাজের একজন সিনিয়র ক্যাপ্টেন বলেছেন, ‘জাহাজে থাকা ক্রুদের অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।কাঠের মইয়ের দুপাশের রশি (ম্যানরোপ) ধরে পাইলট জাহাজে উঠেন। সেখানে ব্যবহৃত সব পণ্যই আর্ন্তজাতিক মেরিটাইম সনদযুক্ত হতে হবে। পাইলট মই বেয়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়া জাহাজের সিনিয়র অফিসারের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা। এখানে সেটা হয়নি।’
কন্টিনেন্টাল ট্রেডার্সের মহাব্যবস্থাপক রশিদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আরেক কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আলমকে ফোন দিলে তিনি ছুটিতে থাকার কথা জানান। তবে ঘটনাটি তিনি জানেন বলে জানিয়েছেন।







