কলকাতার হোটেলে আগুন
পাঁচজনের মরদেহের অপেক্ষায় বেনাপোলে স্বজনরা

সংগৃহীত ছবি
ভারতের কলকাতার শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে। প্রিয়জনদের মরদেহ নিতে আজ শনিবার সকাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।
বেনাপোল দিয়ে যাদের মরদেহ আসছে তারা হলেন— কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত, আফসানার বাবা আকরাম আলী এবং সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু। নিহতদের ময়নাতদন্ত এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সাভারের ব্যবসায়ী জোবায়ের বাবু চিকিৎসার জন্য ঘটনার দুদিন আগে কলকাতায় যান। সেখানে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হন। তার মরদেহ নিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেনাপোলে অপেক্ষা করছেন বড় ভাই মোহাম্মাদ আলী।
মোহাম্মাদ আলী জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকালে ভাইয়ের মরদেহ নিতে তিনি বেনাপোলে আসেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহ দেশে আসার কথা থাকলেও ছাড়পত্র জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। শনিবার ভোরে আসার কথা থাকলেও এখন দুপুরের দিকে মরদেহ পাওয়ার কথা শুনছেন তিনি।
এদিকে দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় কলকাতায় আছেন দেবাশীষের শ্যালক ফিরোজ হাসান। কলকাতায় থাকা আত্মীয় সঞ্চয় ঘোষ ও কাঞ্চন নন্দীও এ কাজে সহযোগিতা করছেন। তাদের মরদেহ নিতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক ও স্বজনরাও বেনাপোল বন্দরে অপেক্ষা করছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্তের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে। আফসানা শারমীন ও আকরাম আলীর মরদেহ ইসলামি রীতিতে দাফন করা হবে। ৯ বছর আগে আফসানাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন দেবাশীষ।
গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ সাড়ে ১২টার দিকে ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে এসেছে। আরেক বাংলাদেশি রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতে সৎকার করা হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন জানিয়েছেন, মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে মরদেহবাহী গাড়ি বেনাপোলে কখন পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত হয়নি।







