মহেশখালীর পাহাড়ে দেশীয় অস্ত্রের কারখানার সন্ধান
- একজন গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে পাহাড়ের ভেতর একটি দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে মহেশখালী থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের মিঠাছড়ি এলাকার পশ্চিমে পাহাড়ের ভেতরে একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় ওই বসতবাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদিসহ রহমত উল্লাহ ওরফে বাঁশি (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রহমত উল্লাহ উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার ছাব্বির আহমদের ছেলে।
পুলিশের দাবি, রহমত উল্লাহ একজন পেশাদার চোর। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় নারী নির্যাতনসহ দুটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, রহমত উল্লাহসহ তাঁর অন্যান্য সহযোগী পাহাড়ের ভেতরে বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে বাইরে বিক্রি করে আসছিলেন।
মহেশখালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার রহমত উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে পাশের ইউনিয়ন শাপলাপাড়ার বিভিন্ন বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি করে আসছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতে শাপলাপুরের মিঠাছড়ি এলাকায় চুরির প্রস্তুতিকালে স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রহমত উল্লাহর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিঠাছড়ি এলাকার পশ্চিমে পাহাড়ের ভেতরে একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। এ সময় ওই বসতবাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা সরঞ্জামাদির মধ্যে রয়েছে—বন্দুকের কাঠের তৈরি বাট দুটি, হাতে বানানো কাঠের তৈরি বন্দুকের বাট দুটি, ট্রিগার মেকানিজম (ছোট-বড়) চারটি, অস্ত্র তৈরির ব্যারেলের অংশ ছয়টি, অস্ত্রের ট্রিগার (ছোট-বড়) আটটি, অস্ত্রের রিসিভার কভারের সদৃশ অংশ পাঁচটি, অস্ত্রের ভেতরের স্প্রিং (ছোট-বড়) ১৫টি, অস্ত্রের অন্যান্য ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ ১৫টি, লোহার হাতুড়ি দুটি, লোহা ধারানোর লেদ একটি, লোহার বাটাল দুটি, লোহার পাইপ একটি, ড্রিল মেশিন একটি, স্ক্রু ড্রাইভার তিনটি, করাত একটি, হাতে চালিত ড্রিল মেশিন একটি, পরিমাপ স্কেল একটি, ইলেকট্রিক উড প্ল্যানার একটি, লোহা কাটার গ্রাইন্ডার একটি, দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল একটি, বড় টর্চ লাইট একটি, ইলেকট্রিক হ্যাকসো একটি এবং লোহা কাটার হ্যান্ড করাত একটি।
অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার সকালে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে থানায় একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে।
জানতে চাইলে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল সুলতান বলেন, ‘রহমত উল্লাহ একজন পেশাদার চোর। পাশাপাশি তিনি তার অন্যান্য সহযোগীকে নিয়ে পাহাড়ের ভেতরে দেশীয় অস্ত্র তৈরি করে বাইরে বিক্রি করে আসছিলেন।’
তিনি জানান, শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে রহমত উল্লাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।







