অটোরিকশাকে ট্যাংক লরির চাপা, একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

ট্যাংক লরির চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা।
সিলেটের ওসমানীনগরে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংক লরির চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের চার বছরের কন্যাশিশু এবং অটোরিকশাচালক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার শিরামসি গ্রামের নিয়ামত আলী (৩৫), তার স্ত্রী অজুফা বেগম (২৫), তাদের চার বছরের মেয়ে আয়েশা এবং একই উপজেলার অটোরিকশাচালক লালন আহমদ।
নিহত নিয়ামতের ভাই গাজীরুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিলেট থেকে জগন্নাথপুরের শিরামসি গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন নিয়ামত। পথে ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা। এতে তার ভাই, ভাবি ও ভাতিজি আয়েশা নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় ঢাকাগামী পদ্মা তেল কোম্পানির একটি ট্যাংক লরি বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অটোরিকশার চালকসহ সাতজন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, ট্যাংক লরিটি ভুল পাশে এসে অটোরিকশাটিকে চাপা দেওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল ও ভুল লেনে গাড়ি প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হন। ফলে একই মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে একের পর এক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।







