‘আমার পুতের কোনো দোষ আছিল না, খালি কষ্টের ট্যাকা ফেরত চাইছিল’

কফিনে সবুজ হাওলাদারের মরদেহ
পাঁচ বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা এবং প্রতিবন্ধী বোনের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার স্বপ্ন নিয়ে চার বছর আগে সৌদি পাড়ি জমিয়েছিলেন বরগুনার বেতাগীর দক্ষিণ বাসন্ডা গ্রামের সবুজ হাওলাদার। সৌদিতে হত্যার শিকার হয়ে আজ শনিবার কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবের ওয়াদি আল-দাওয়াসির এলাকায় কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার আলী ও আবুল হোসেনের কাছে সবুজের প্রায় ১০ হাজার রিয়াল পাওনা ছিল। সেই পাওনা রিয়াল চাইতে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন। এর আগে একবার তাকে মারধর করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় দফায় পাওনা টাকা চাইলে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়া হয় এবং গাড়ি তার ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় সৌদি পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা বর্তমানে সৌদি আরবের কারাগারে রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর সবুজের মরদেহ দীর্ঘদিন সৌদি আরবের ওয়াদি আল-দাওয়াসির জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ছিল। আইনি জটিলতা ও ইকামা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগে।
আজ সকালে বিমানবন্দর থেকে সবুজের কফিন গ্রহণ করেন তার বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম ও ভাতিজা সোহেল রানা। পরে বিকালের দিকে মরদেহ নিজ গ্রামে পৌছায়।
সবুজের ভাতিজা সোহেল রানা অপু বললেন, ‘আমার চাচাকে পরিকল্পিতভাবে ও অত্যন্ত নির্মমভাবে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নানা জটিলতা পেরিয়ে আমরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনেছি। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
কান্নায় ভেঙে পড়ে সবুজের বৃদ্ধ মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার পুতের কোনো দোষ আছিল না। সে খালি নিজের কষ্টের ট্যাকা ফেরত চাইছিল। হ্যারা আমার বুক খালি কইরা পুতডারে মাইরা ফালাইল। এহন আমার এই এতিম নাতি আর প্রতিবন্ধী মাইয়াডারে নিয়া আমি কোনহানে যামু? আমি আল্লাহর কাছে আর সরকারের কাছে এই খুনিগো ফাঁসি চাই।’
এলাকাবাসী জানান, পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্নে একজন প্রবাসী ঘর ছাড়লেও তাঁর সঙ্গে থাকে পুরো পরিবারের ভবিষ্যতের দায়িত্ব। সবুজও সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সৌদি গিয়েছিলেন। কিন্তু পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে প্রাণ হারিয়ে তাকে ফিরতে হলো কফিনে।







