নুসরাত হত্যা: আপিলের রায় আজ, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় মা

ফেনীর নিহত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। সংগৃহীত ছবি
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় পড়তেন নুসরাত জাহান রাফি। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ভেতরে তার গায়ে দেওয়া হয় আগুন। পাঁচ দিন হাসপাতালে থেকে মারা যান তিনি। তবে মৃত্যুর আগে জানিয়ে যান, কারা ছিল দায়ী।
ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় হয় দেশজুড়ে। মামলার বিচার শেষে সে বছরের ২৪ অক্টোবর রায় দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে।
আলোচিত এই মামলার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় আজ। একদিকে ন্যায়বিচারের অপেক্ষা, অন্যদিকে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।
নিন্ম আদালতের রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস শিরিনের। এলাকার ‘প্রভাবশালীদের নানা হুমকিতে’ মামলার বাদী ও সাক্ষী পরিবারের তরুণ সদস্যদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় বলে জানান তিনি।
‘অপরাধীদের সহযোগীরা যে কোনো সময় প্রতিশোধ নিতে পারে’— এমন আশঙ্কায় ছেলেদের চলাফেরা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত শিরিন।
আজ আপিলের রায় সামনে রেখে সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চরচান্দিয়া এলাকায় নুসরাতের বাড়িতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. আবুল হাশিম আগামীর সময়কে বলেছেন, আগে থেকেই ওই বাড়িতে পুলিশের পাহারা ছিল। এখন ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রায়ের পরেও নিহতের পরিবারকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এই মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরিন। গ্রেপ্তারও হন অধ্যক্ষ। তবে অনুসারীরা তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে বিক্ষোভ করেন।
এরপর ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে দেখা করার পর ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে গায়ে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ১০ এপ্রিল মারা যায় সে। তার ভাইয়ের করা মামলা রূপান্তরিত হয় হত্যা মামলায়। ওই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এই মামলার রায় দেন।
১৬ আসামির প্রত্যেককে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করেন আসামিরা। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রানার বিশেষ বেঞ্চে আপিলের শুনানি শেষে রায়ের দিন আজ নির্ধারণ করা হয়।









