সিরিয়ায় হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ইসরায়েলি পত্রিকা

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
সিরিয়ায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছে সংবাদপত্র হারেৎজ। পত্রিকাটি সতর্ক করে বলেছে, এই উত্তেজনা ইসরায়েলকে তুরস্কের সঙ্গে ‘অর্থহীন ও অন্তহীন সংঘাতে’ জড়িয়ে ফেলতে পারে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি বলেছে, ‘নির্বাচনের আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা বা লেবাননে যুদ্ধ চালাবেন কি না, কিংবা পশ্চিম তীরে সংঘাত ছড়াবেন কি না, তা নিয়ে যখন আমরা ভাবছিলাম, তখন তিনি উত্তর সিরিয়ায় সামরিক আক্রমণের পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এতে তুরস্কের সঙ্গে নতুন একটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’
হারেৎজ বলেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তুরস্কবিরোধী ইসরায়েলি বক্তব্য মঙ্গলবার উত্তর সিরিয়ার একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলার মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এর আগে, নেতানিয়াহুর দাবি করেন, হামলার লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে তুরস্কের উপস্থিতি ঠেকানো। তবে আঙ্কারা ও ওয়াশিংটন ইসরায়েলের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, নির্বাচনী স্বার্থে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আটটি হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান। এতে বিমানঘাঁটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার পর তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলি হামলার আগে বা হামলার সময় আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক মিশন ছিল না।
হারেৎজ তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত থমাস বারাকের সতর্কবার্তার কথাও উল্লেখ করেছে। বারাক বলেছেন, ইসরায়েলের এই হামলা ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে ‘সরাসরি সামরিক সংঘাতে’ রূপ নিতে পারত।
পত্রিকাটি বলেছে, বারাকের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এটিই হয়তো ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ছিল।
বারাক বলেছেন, তুরস্কের ‘ইসরায়েলে হামলা চালানোর বা দেশটির সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই’। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনের সময় হওয়ায় নেতানিয়াহু ‘অযৌক্তিক আচরণ করতে পারেন’।
হারেৎজ বলেছে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যখন সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে, তখনই ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ইসরায়েল ‘এই প্রচেষ্টার বিপরীত পথে’ এগোচ্ছে।
পত্রিকাটি বলেছে, ‘এর ফলে ইসরায়েল শুধু সিরিয়াকেই নয়, সেখানে যুক্ত অন্য সব পক্ষকেই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে, দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।’
হারেৎজ মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ও একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসরায়েলকে নতুন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
পত্রিকাটি বলেছে, ‘নেতানিয়াহু যখন উত্তর সিরিয়ায় এই নিখুঁত অভিযান নিয়ে গর্ব করছেন, তখন তার চোখের সামনে বিপজ্জনক ও অর্থহীন এই অভিযান চলছে। একই সময়ে এ নতুন জোট গড়ে উঠছে। কিন্তু ইসরায়েল তার অংশ নয়।’
পত্রিকাটি আরও বলেছে, ‘শুধু বোমা হামলা চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা হুমকি ঠেকানো যায় না। এর বিকল্প কূটনীতি ও সুচিন্তিত নীতি প্রয়োজন। নেতানিয়াহুর সময়ে এসবের গুরুত্ব যেন হারিয়ে গেছে। ইসরায়েলকে দূত বারাকের সতর্কবার্তা শুনতে হবে এবং তুরস্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’
আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলার পর সিরিয়া জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দুটি অভিন্ন চিঠি পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা, যার মধ্যে বিমান হামলা, অনুপ্রবেশ ও অপহরণও রয়েছে, ‘স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং অঞ্চলটিকে আরও উত্তেজনার ঝুঁকিতে ফেলছে’।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়া জুড়ে হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর







