আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে ইরান, অভিযোগ নেতানিয়াহুর

দুই ছেলে সঙ্গে নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তার এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে সোমবার টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তারা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।’
তবে এই হামলার পরিকল্পনা কখন, কোথায় এবং তার কোন ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি তিনি। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ছয় মাস আগে ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করে ইসরায়েল।
ইরানের নেতারা তার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। তবে নেতানিয়াহুর অভিযোগ নিয়ে তেহরানের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহু এ অভিযোগ তুলেছেন ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগে। অক্টোবরের এই নির্বাচনের সবশেষ জনমত জরিপে তার জোট রয়েছে পিছিয়ে।
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোতের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে নিজের ছেলের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।
আইজেনকোতকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিতে দেশটির একটি নিরাপত্তা সংস্থা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে তিনি নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী।
নেতানিয়াহু প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোতকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে বলেন, এ ধরনের নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। তার ভাষ্য, নিরাপত্তা না থাকলে ‘ইরানিরা সফল হবে’।
এদিকে দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও তার স্ত্রী বাড়তি নিরাপত্তা পাচ্ছেন।
তার বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে রয়েছেন। তার নিরাপত্তায় ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয় নিয়ে দেশটিতে বিতর্ক রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলীর সঙ্গে তার পরিবারের চার সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে খামেনির মেয়ে বোশরা ও ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরাও ছিল।
খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়ে অঙ্গীকার করেছেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে।







