ডিএনএ টেস্ট
ধর্ষণের শিকার শিশুটির সন্তানের বাবা সেই মাদ্রাসা শিক্ষকই

আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর হুজুর- ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
নেত্রকোনায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর হুজুরের নমুনা মিলে গেছে।
আজ সোমবার আদালতে ডিএনএ রিপোর্টের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর এ তথ্য জানিয়েছেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।
ডিএনএ প্রতিবেদনের একটি কপি এসেছে আগামীর সময়ের হাতে। ওই প্রতিবেদনের মন্তব্যের অংশে লেখা হয়েছে, ‘ডিএনএ টেস্টে এটা প্রমাণিত হয় যে, আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর হুজুর নবজাতক কন্যাসন্তানের জনক।’
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের মহিলা কওমি মাদরাসায় পড়ত শিশুটি। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় যেত সে। এক পর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তার মা গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
গত ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয় সে। পরে নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ।
আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনেই নবজাতকের বাবা হিসেবে আমান উল্লাহর নাম নিশ্চিত করা হয়েছে।







