রংপুরে চার খুনের তদন্তে ডিবি

রংপুরে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তভার পেয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ধোঁয়াশার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছেন, মামলাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করতেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিবিকে।
গতকাল সোমবার বিকালে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী ডিবি কার্যালয়ে যান। তিনি মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেন নতুন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর কাছে।
পরে দুই তদন্ত কর্মকর্তা যান নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় জানান নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে।
ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার দুই আসামি। আদালত সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন, আসামিরা পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কিছু অতিরিক্ত তথ্যও এসেছে, যা তারা আগে পুলিশকে জানাননি।
এর আগে রবিবার ভোরে এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুগ্ধ নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে। সিদ্ধার্থ বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে।
গত শনিবার রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগামী স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রিয়ম ছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
গত রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) আবদুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে তিনি হত্যাকাণ্ডের যে বিবরণ দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্যের ফারাক দেখা যায়। এছাড়া দুজন মিলে কীভাবে চারজনকে হত্যা করল, তা নিয়েও সন্দেহ পোষণ করছেন নিহতদের স্বজনরা।
গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসের পর মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। দোতলা বাড়িটির নিচতলার কাজ শেষ না হলেও দুই-তিন বছর ধরে তিনি পরিবার নিয়ে দোতলায় বসবাস করছিলেন।
অবসরের পর গণপতি চক্রবর্তী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন।







