আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় পিছিয়ে ৩১ আগস্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
আগামী ৩১ আগস্ট রায়ের নতুন তারিখ ঠিক করেছেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আলোচিত এই মামলায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ মে রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখের (৪৭) মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় তাকে।
বিচারিক আদালতের রায়ে বাকি তিন আসামি খালাস পান। তারা হলেন, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগম।
বিচারিক আদালতে রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাইকোর্টে আসে মামলাটি, দণ্ডিত আসামি আপিলও করেন।
হাইকোর্টে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
এদিকে হাইকোর্টের রায় পেছানোয় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিশু আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘রায় তো দিতে দেড় বছর হয়ে গেছে। আবার রায় পেছাল। সরকার যদি মনে করে তাকে ছেড়ে দিক! ফাঁসি যদি দিতে না পারে, হিটু শেখকে ছেড়ে দিক।’
বিচারিক আদালতে তিন আসামির খালাস পাওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে আছিয়ার মায়ের।
আছিয়ার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুরে। গত বছরের মার্চের শুরুতে সে মাগুরা শহরে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি।
ওই বছরের ৬ মার্চ তাকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান তার বোনের শাশুড়ি। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সবশেষে সিএমএইচে নেওয়া হয় শিশুটিকে। সেখানে ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
দুদিন পর ৮ মার্চ আছিয়ার মা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা তখন আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। বিচারের দাবিতে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন।
এক মাসের মধ্যেই গত বছরের ১৩ এপ্রিল মাগুরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২৩ এপ্রিল শুরু হয় বিচার। দুমাস পর ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।
গত বছরের ২১ মে এ মামলার নথি উচ্চ আদালতে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়।
প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয় মামলাটি।







