নাগরিকত্ব প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি উত্তর চায় টিআইবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাংবাদিকরা নাগরিকত্বের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির যে আচরণ করেছেন তার নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
গতকালের ঘটনা নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায় টিআইবি।
দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী হুমায়ুন কবিরের সে দেশে নাগরিকত্ব রয়েছে বলে কথা উঠেছে। গতকাল সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বাংলাদেশের নাগরিক। কারা এই রিপোর্ট করেছেন? তাদের কি আবার ২০০৮-এর জ্বালা উঠেছে নাকি? মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিনের জ্বালা?’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এ বিষয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজের অবস্থান প্রকাশ না করে প্রতিমন্ত্রীর পদ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। অথচ বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশের লক্ষ্যে সংবাদকর্মীরা যখন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছেন, তখন প্রতিমন্ত্রী তার সরাসরি উত্তর দেননি। বরং তিনি “কে নিউজ করছে” এবং “কার এত জ্বালা” বলে পাল্টাপ্রশ্ন করেছেন, যা পতিত কর্তৃত্ববাদী আমলের “শুট দ্য মেসেঞ্জার” চর্চারই প্রতিফলন।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে করা হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রীয় পদে থাকা কোনো ব্যক্তি তথ্যভিত্তিক ও সরাসরি জবাব দেবেন- এমনটাই প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ থাকলেও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানে বাধা রয়েছে।
হুমায়ুন কবিরের অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়ার কথা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল থাকা অবস্থায় টেকনোক্র্যাট কোটায় তার নিয়োগ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেছেন, ‘বিষয়টি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় পদকে কেন্দ্র করে। তাই এর আন্তর্জাতিক মাত্রা এবং বাংলাদেশের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর বিতর্কের ঝুঁকিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশ ও তার নিয়োগের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।’
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির সংবিধান মেনেই শপথ নিয়েছেন এবং তাতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আইনগত সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, হুমায়ুন কবির দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করেই শপথ নিয়েছেন। আমরা যা করেছি সব সাংবিধানিকভাবেই করেছি।’








