আজ আসছেন উপমন্ত্রী
পৌনে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়া হবে কোরিয়ার কাছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করতে একদিকে ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন (১৬৭ কোটি) ডলারের অর্থায়ন, অন্যদিকে ঢাকার মেট্রোরেল, চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুসহ সাত প্রকল্প। সব মিলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন (২৭০ কোটি) ডলারের বেশি ঋণ প্যাকেজ চাইবে সরকার, যা দেশের মুদ্রায় প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এরই মধ্যে ঋণের প্যাকেজ তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বড় অঙ্কের এ ঋণের প্রস্তাব তুলে ধরা হবে দক্ষিণ কোরিয়ার উপমন্ত্রী কিম জিননামের কাছে। আজ বুধবার ঢাকায় দুদিনের সফরে আসছেন তিনি। ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এসব তথ্য।
তারা আরও জানালেন, আগামী অক্টোবরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কোরিয়া সফর করবেন। তখন সই হবে বাংলাদেশ-কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ)। ফলে অর্থমন্ত্রীর সফরের আগে কোরিয়ার উপমন্ত্রীর সফরটি উভয় দেশের জন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই আলোচনায় অনুরোধ করা হবে স্বল্পসুদে ঋণ ও দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনাল অর্থায়ন অব্যাহত রাখার। কারণ এলডিসি উত্তরণের পরও স্বল্পসুদে ঋণ পাওয়া কঠিন হবে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এলডিসি উত্তরণ, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নেও কোরিয়াকে পাশে চাইছে সরকার।
এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ইআরডির এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বললেন, ঋণ ছাড়াও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা চাওয়া হবে। এ ব্যাপারে একটি ছক তৈরি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহজ শর্তের ঋণ এবং কোইকার অনুদান দিয়ে আসছে কোরিয়া সরকার। ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) মার্কিন ডলারের মেগা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার অত্যন্ত সুদমুক্ত (০.০১% সুদ, ৪০ বছর মেয়াদ) এবং বাকি ৩ বিলিয়ন ডলার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফান্ড ঋণ হিসেবে নির্ধারিত।
এ ছাড়া চলমান ১৪৯ কোটি ডলারের ৭টি প্রকল্প ছাড়াও ২৪টি প্রস্তাবিত প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় চলমান যৌথ প্রকল্পগুলোর গতি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন প্রকল্পগুলোতে কোরিয়ার বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হবে।
জানা গেছে, ঢাকায় সফরকালীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন উপমন্ত্রী কিম জিননাম। সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ২০২৩ থেকে ২০২৭ মেয়াদে ইডিসিএফ ও ইডিপিএফের আওতায় ঘোষিত ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, অর্থনীতিতে তা তুলে ধরবেন।
কর্মকর্তারা জানালেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ইডিসিএফের ঋণে ২০৩৪ সালের মধ্যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওই বিমানবন্দরকে শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক বিমানবন্দর নয়, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় ঢাকা। রোহিঙ্গা সংকটে জরুরি আকাশপথ ব্যবহারের বিষয়টিও প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীর এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) ও এমআরটি লাইন-৪-এর কোরিয়ান অংশের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন চূড়ান্ত অর্থায়ন সিদ্ধান্তে কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের সমর্থন চাইবে ঢাকা। একই সঙ্গে এমআরটি-৪-এর সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ থাকবে।
আর চট্টগ্রামের কালুরঘাট রেল-কাম-রোড সেতুতে কোরিয়ার ইডিসিএফ ঋণে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ডলার অর্থায়ন এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৩-৩০ মেয়াদের এ প্রকল্পের অর্থায়ন অব্যাহত রাখা এবং নির্মাণকাজ নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।
জানা গেছে, প্রায় ৩৫ কোটি ডলারের মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়ক সেতুতে দ্রুত ঋণচুক্তি এবং ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সেতুতে চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ কোরিয়ার কাছে ঢাকার বার্তা পরিষ্কার— শুধু নতুন প্রকল্পে অর্থ নয়, চলমান প্রকল্পের অর্থায়নের ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করতে হবে।
জানা গেছে, প্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এআই। এজন্য কোরিয়া সরকারের কাছে ১৩ মিলিয়ন ডলারের অনুদান চাওয়া হবে। ২০২৬-২৯ মেয়াদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও হাইটেক দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় সরকার। সহায়তা চাওয়ার তালিকায় আরও আছে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি, ইলেকট্রিক বাস, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা, মহাসড়ক নিরাপত্তা এবং সেতু রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তি।






