শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের ঘটনায় মানববন্ধন, বিনিয়োগকারীদের ৫ দাবি

মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ
শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। কর্মসূচি থেকে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করাসহ পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
তাদের দাবিগুলো হলো- ডিএসইর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বড় বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধ করা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা, আইসিবি ও ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পদত্যাগ এবং শেয়ারবাজার উন্নয়নে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুরনো ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি নূরুল হক হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান, অর্থ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ও দরপতন অব্যাহত। এর ফলে সাধারণ ও বড় বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত করে এমন অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’
তার দাবি, ‘বাজার কিছুটা ভালো থাকলে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্রোকারেজ হাউজে নানা ধরনের ক্যোয়ারি, তদন্ত ও অনুসন্ধান চালানো হয়। কিন্তু বাজার যখন ধারাবাহিকভাবে পড়ে যায়, তখন বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি একইভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না।’
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘বাজার উন্নয়নে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেজ (সিএসই) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
এদিকে আজ মঙ্গলবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬৪০ পয়েন্টে। এদিন লেনদেন হয়েছে ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সোমবার ৭৯ পয়েন্ট ও রবিবার ৬৪ পয়েন্ট কমেছিল।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে মোট ১৭ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে মাত্র ৪ কার্যদিবসে, কমেছে ১২ কার্যদিবসে এবং অপরিবর্তিত ছিল ১ কার্যদিবসে। ফলে প্রায় ৭১ শতাংশ কার্যদিবসই সূচক পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন।







