ডিএসইতে পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমার পাশাপাশি মোট লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। এর মাধ্যমে বাজারে গত প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন রেকর্ড করা হলো। এর আগে চলতি বছরের ৬ এপ্রিলে এর চেয়ে কম, অর্থাৎ ৪৭০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৬ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭৫টির দর বেড়েছে, ১৫২টির দর কমেছে এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইতে মোট ৫০৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা থেকে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা কম।
শেয়ারবাজারের টানা দরপতন এবং লেনদেনের এ মন্দাভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র হতাশার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইতে লেনদেন প্রায় পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা এবং সূচকের ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা তাদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন সরকার ও নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এসইসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হলেও বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে পুঁজি হারিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় ব্যানার হাতে রাজপথে নেমে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচীতে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাজারের এই গভীর সংকটের পেছনে মূলত কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তাই দায়ী। একদিকে দীর্ঘ দিন ধরে মানসম্পন্ন নতুন আইপিও বাজারে না আসায় নতুন পণ্যের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা এবং বিদেশি বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার প্রবণতা পতনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। তারল্যসংকট ও নীতিনির্ধারণী সংস্কারের ধীরগতির কারণে বাজারে কার্যকর বড় কোনো ক্রেতা নেই, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্যানিক সেলিং বা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রিতে বাধ্য করছে। বাজারের এই সার্বিক অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নীতিগত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বাজারের ওপর আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে একই দিনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ১৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৯টির দর বেড়েছে, ১১৯টির কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দিন শেষে সেখানে মোট ৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে আজ লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, যার ২৫ কোটি ২৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের ২৩ কোটি ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ১৯ কোটি ০২ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
শীর্ষ লেনদেনের তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সামিট এলায়েন্স পোর্ট লিমিটেড, রানার অটোমোবাইলস পিএলসি, এম.এল. ডাইং লিমিটেড, সিটি ব্যাংক পিএলসি, বেক্সিমকো লিমিটেড, তৌফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি এবং ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
শেয়ার দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল জিকিউ বলপেন লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় ৪৮ হাজার ৬৬৭টি শেয়ার লেনদেন হয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ওয়ানের ইউনিট দর ৪.৫৮ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ৪২২টি ইউনিট লেনদেন হয়েছে। ৪.৪৪ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে তৃতীয় স্থানে থাকা ফারইস্ট নিটিং ৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় ২৯ লাখ ৬ হাজার ৫৫৩টি শেয়ার লেনদেন করেছে।
এছাড়াও গোল্ডেন সন, ক্রাউন সিমেন্ট, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান: স্কিম ওয়ান, নিটল ইন্স্যুরেন্স, এস্কয়ার নিট এবং সালভো কেমিক্যালের শেয়ার দর বেড়েছে।
অন্যদিকে শেয়ার দর পতনের শীর্ষে অবস্থান করছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ১০ শতাংশ কমে ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার ২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ক্যাপিটেক গ্রোথ ফান্ডের ইউনিট দর ৯.৭১ শতাংশ কমে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকায় ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৬৮টি ইউনিট লেনদেন হয়। ৭.৫৮ শতাংশ দর হারিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, যার ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৫টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
দর পতনের তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো তুং-হাই নিটিং, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফু-ওয়াং ফুড, প্রাইম টেক্সটাইল, আমরা নেটওয়ার্কস, রানার অটোমোবাইলস এবং ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।






