আগামীর চোখ
বালিশের পর পর্দা, এরপর কী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
সালাম নেবেন। একসময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশকাণ্ড’র ঘটনা শুনে দেশের মানুষ তাজ্জব বনে গিয়েছিল। একটি বালিশ-তোশক ভবনে তুলতে হাজার হাজার টাকা খরচের ঘটনা আমাদের প্রশাসনিক দুর্নীতির ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। চব্বিশের পর আমরা সাধারণ নাগরিকরা মনে করেছিলাম, হয়তো এমন দুর্নীতির শেষ অধ্যায় পড়ে ফেলেছি। কিন্তু মেহেরপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের ‘পর্দাকাণ্ড’ আমাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। আমরা বুঝতে পেরেছি, দেখার অনেক কিছুই বাকি আছে।
অনুসন্ধানে যা বের হয়ে এসেছে, তা শুনলে যে কেউ ভিরমি খাবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাসপাতালের পণ্যসামগ্রী ক্রয়ের মোট বরাদ্দ ছিল ৩৫ লাখ টাকা। আর সেই বরাদ্দের ২০ লাখ টাকা ঢেলে দেওয়া হয়েছে শুধু পর্দা কেনাকাটায়! যেখানে সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া পার হয়ে ‘মেহেরপুর ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৩৫ লাখ টাকার কার্যাদেশ পেয়েছিল, সেখানে সেই বৈধ ঠিকাদারকে মাত্র ৯ লাখ টাকার মালামালের অর্ডার দিয়ে বাকি টাকা পছন্দের ঠিকাদারের ঝুলিতে পুরেছেন হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. বুলবুল কবির। স্থানীয় বাজারের সর্বোচ্চ দর বিবেচনা করলে মিস্ত্রি ও পাইপ ফিটিংসসহ পুরো ভবনের পর্দা টাঙাতে খরচ হওয়ার কথা অনধিক ৬ লাখ টাকা। বাকি ১৪ লাখ টাকা তবে কোথায়? এখান থেকে যে বুলবুল সাহেব কিছু পাননি, এমনটা অবিশ্বাস করি কী করে!
সম্ভবত দুর্নীতিবাজরা এটি ঠিক করেই নিয়েছে যে ‘দুর্নীতি চলছে, দুর্নীতি চলবে’
টেন্ডার প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বুলবুল সাহেব চার সদস্যের এক ক্রয় কমিটিও বানিয়েছিলেন। অদ্ভুৃত ব্যাপার হলো, ক্রয় কমিটিতে যে চিকিৎসকদের নাম লেখা হয়েছে— তারা জানতেনই না যে তারা এই কমিটির সদস্য! হতে পারে পরিস্থিতি বুঝে তারা সম্ভবত বুলবুল সাহবের দল থেকে সরে পড়েছেন। আবার এমনটা নাও হতে পারে। অবশ্য অনেক টাকার ব্যাপার কিনা, তাই সন্দেহের বাইরেও রাখতে পারছি না।
রূপপুরের বালিশের পর মেহেরপুরের পর্দা। সম্ভবত দুর্নীতিবাজরা এটি ঠিক করেই নিয়েছে যে ‘দুর্নীতি চলছে, দুর্নীতি চলবে’। কিন্তু আমরা মেহেরপুরবাসী এই ব্র্যান্ড লেভেলের দুর্নীতির মধ্যে পড়তে চাই না। তাতে জেলার নাম খারাপ হবে। বালিশকাণ্ডে পাবনা জেলা রূপপুর নামের কারণে বেঁচে গেছে। আমাদের কী হবে? সবাই বলবে মেহেরপুরের ‘পর্দাকাণ্ড’! তাই আপনার কাছে আকুল আবেদন— হাসপাতালের সাবেক ও বর্তমান জড়িত কর্মকর্তা, ভুয়া কমিটি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
ইতি
এক স্থানীয় বাসিন্দা






