অস্তিত্বহীন কর্মীর নামে অনুদান উত্তোলন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার দারুল ইসলাম রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নেই জিনিয়া আক্তার নামে কোনো কর্মচারী। আর মাদ্রাসার আয়া শেফুল আক্তার আহত না হলেও আহত দেখিয়ে তার নামে করা হয় আবেদন। অথচ এই দুজনের নামে উত্তোলন করা হয়েছে সরকারি অনুদানের ২৫ হাজার টাকা। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারা ওই টাকা উত্তোলন করেছেন।
শুধু তা-ই নয়, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির নাতি ও এক অধ্যাপকের ছেলেকেও দরিদ্র শিক্ষার্থী দেখিয়ে অনুদানের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ মাদ্রাসায় আরও দরিদ্র শিক্ষার্থী থাকার পরও তাদের বাদ দিয়ে সচ্ছল শিক্ষার্থীদের নামে অসচ্ছল ভাতা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুদান খাত থেকে দারুল ইসলাম রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার নামে ২৫ হাজার এবং ১৪ শিক্ষার্থীর জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
এর মধ্যে জিনিয়া আক্তার নামে মাদ্রাসায় কোনো কর্মচারী না থাকলেও তার নামে ১৫ হাজার এবং মাদ্রাসার আয়া শেফুল আক্তারের নামে ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে শেফুল আক্তার জানিয়েছেন, তিনি আহত হননি এবং এ ধরনের কোনো অনুদানের জন্য আবেদনও করেননি।
শেফুল আক্তার বলেছেন, ‘আমি আহত হইনি, কোনো আবেদনও করিনি। তাই আমার নামে অনুদানের টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর জিনিয়া আক্তার নামে মাদ্রাসায় কোনো কর্মচারী নেই। তাহলে তার নামে টাকা নিলেন কারা?’
এ ছাড়া মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু তাহের মুহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাতি এবং আরবি বিষয়ের অধ্যাপক আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ খালেদের ছেলে আবু মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে দরিদ্র শিক্ষার্থী দেখিয়ে অনুদানের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদ্রাসায় আরও দরিদ্র শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও সচ্ছল শিক্ষার্থীদের নামে অসচ্ছল ভাতা নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গভর্নিং বডির সভাপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোবারক হোসেইনের আত্মীয়তা রয়েছে। তাদের মাধ্যমে অনুদানের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তালিকায় অনিয়ম করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোবারক হোসেইন বলেছেন, উপবৃত্তি ও সহায়তার তালিকায় চারটি নাম ভুলভাবে যুক্ত হয়েছে। এসব নাম কে বা কারা যুক্ত করেছে, তা তার জানা নেই। বিষয়টি আগেই মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।






