যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক কানাডার

ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এবার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। মার্কিন বিভিন্ন পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করবে দেশটি। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। খবর বিবিসির।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেছেন, শুক্রবার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবেই পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর এসব শুল্ক কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, আসবাবপত্র, তাজা টুনা মাছ ও তুলার টি-শার্টের মতো পণ্য।
অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেন বলেছেন, ‘এসব শুল্ক কানাডার শ্রমিক, ব্যবসা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলবে। কানাডাকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।’ কানাডার পাল্টা শুল্ককে ‘আনুপাতিক’ ও ‘কৌশলগত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন শ্যাম্পেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য আরও ৭৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলার সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিন প্রায় ৯০০টি মার্কিন পণ্যের তালিকা প্রকাশ করেছে কানাডা, যেগুলোর ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে।
এর মধ্যে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে আরোপ করা হয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক। এসব পণ্যে আগে ২৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। প্রাকৃতিক মধু, আসবাব, পোশাক, প্রসাধনী ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন পণ্যে চাপানো হয়েছে ৫০ শতাংশ শুল্ক।
ডিশওয়াশার ও ওয়াশিং মেশিনের মতো গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, পনিরের মতো দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাবার এবং নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক। ফর্কলিফট ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নির্দিষ্ট ধরনের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
কানাডার কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটির ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা যাতে এসব পণ্যের বিকল্প উৎস খুঁজে নিতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পণ্যগুলো বাছাই করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ক্ষতি যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুই বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্যে শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের সীমান্তের উভয় পাশেই এর প্রভাব পড়বে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন দিন ধরে আলোচনা করেও চূড়ান্ত কোনো বাণিজ্য চুক্তিতে পৌছাতে পারেননি দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। এর পরপরই কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
সেইসঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া নিয়ে একে অপরের প্রতি অভিযোগ করেছিল দেশদুটি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই পরিস্থিতির জন্য কানাডাকেই দায়ী করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যে সুযোগ কানাডার সামনে ছিল, তারা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।






