৯/১১ হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারীর’ বিচার শুরুর তারিখ নির্ধারণ

অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদ। ছবি: রয়টার্স
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার শুরুর নতুন তারিখ নির্দিষ্ট হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর সামরিক আদালতের বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল শ্রামা এ তারিখ নির্ধারণ করেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের জুনে শুরু হবে বিচার।
একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রসিকিউশন ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিচার প্রায় ১৮ মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে আরও তিনজনের বিচার হবে। তারা হলেন ওয়ালিদ বিন আত্তাশ, আলি আবদুল আজিজ আলি ও মুস্তাফা আহমেদ আল-হাউসাওয়ি। তাদের বিরুদ্ধে ৯/১১ হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে ছিনতাই করা যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগনে হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাই করা তৃতীয় বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
২০০৩ সালের মার্চে খালিদকে পাকিস্তান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগ পর্যন্ত, খালিদ শীর্ষ আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর তাকে তিন বছর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। ২০০৬ সালে তাকে কিউবার গুয়ানতানামো বে মার্কিন নৌঘাঁটিতে নেওয়া হয়।
প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর দায়ে ২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও হত্যার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। একই বছর প্রথমবারের মতো তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
তবে সামরিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় একের পর এক আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিচার বারবার পিছিয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, সিআইএর গোপন কারাগারে চালানো নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ ঠেকানোর চেষ্টা মামলাটির দীর্ঘসূত্রতার বড় কারণ।
২০১৪ সালে প্রকাশিত মার্কিন সিনেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএ খালিদ শেখ মোহাম্মদের ওপর ‘উন্নত জিজ্ঞাসাবাদ কৌশল’ প্রয়োগ করেছিল। এর মধ্যে তাকে ১৮৩ বার পানিতে ডুবিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথাও উল্লেখ করা হয়। এ প্রতিবেদনে ‘প্রায় ডুবে যাওয়ার মতো ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
গত বছর মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা বাতিল করেন। ওই চুক্তির আওতায় খালিদ শেখ মোহাম্মদ দোষ স্বীকার করলে তার মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ থাকত না। তিনি তখন প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড পেতেন।
সূত্র: টিআরটি







