Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
অবহেলিত প্রবীণদের ঠিকানা সাজুর বৃদ্ধাশ্রম
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় জাতীয়

রংপুরের ৪ খুন নিয়ে আসকের পর্যবেক্ষণ

ঘটনার উদ্দেশ্য, সময়, হত্যার পদ্ধতিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে

আগামীর সময় প্রতিবেদক
agamir somoy
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫৩
ঘটনার উদ্দেশ্য, সময়, হত্যার পদ্ধতিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে

সংগৃহীত ছবি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেশের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান পর্যবেক্ষণে আসক বলেছে, গত ২০ আগস্ট রাতে রংপুর মহানগরের কামালকাছনার মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তান আগামী চক্রবর্তী ও আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয় বলে গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ২২ আগস্ট রাতে স্বজনদের উদ্যোগে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও ঘটনাক্রম সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ। তবে সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু প্রশ্ন ও অসংগতি সামনে এসেছে।

আসক বলেছে, রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৪ ও ২৫ আগস্ট রংপুরে সরেজমিন তথ্যানুসন্ধান করে। প্রতিনিধি দল নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশ, থানা কর্তৃপক্ষ, মর্গ ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন

রংপুরে ৪ খুন : পুলিশের এবারের ব্রিফিংয়ে বদলে গেল যেসব তথ্য

২৭ আগস্ট ২০২৬

স্বজনদের বক্তব্যে উঠে আসা তথ্য

নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী আসক প্রতিনিধিদের জানান, ২০ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বোনের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তবে পরদিন তিনি দেখতে পান, রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তার বোনের নম্বর থেকে তাকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি সেই ফোন ধরতে পারেননি।

পূজা চক্রবর্তীর বক্তব্য অনুযায়ী, তার বোন সাধারণত এত রাতে তাকে ফোন করতেন না। ফলে রাত ২টা ৪০ মিনিটের ওই ফোনকলটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পুলিশের বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখলে।

পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভোরের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন। গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি দেখে ফেললে তাদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং এর পরই তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একে একে হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে, রাত ২টা ৪০ মিনিটে প্রীতিলতা চক্রবর্তীর নম্বর থেকে তার বোনের কাছে করা ফোনকলটি এই সময়রেখার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ওই কলটি কে করেছিলেন, কলটি কতক্ষণ স্থায়ী হয়েছিল, তখন মোবাইল ফোনটি কোন অবস্থানে ছিল এবং এর পর পরিবারের সদস্যদের ফোনগুলো কখন বন্ধ হয়— এসব তথ্য কল ডিটেইল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওই ফোনকলের সময় ও পুলিশের বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সময়ের মধ্যে কোনো অসংগতি আছে কি না, তাও তদন্তে স্পষ্ট হওয়া দরকার।

এরপর ২২ আগস্ট রাত ৮ টার কিছু পরে পূজা চক্রবর্তী তার বোনের নম্বরে ফোন করে সেটি বন্ধ পান। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পেয়ে রাত সোয়া নয়টার দিকে তিনি স্বামীকে নিয়ে বোনের বাড়িতে যান। বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তারা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

পূজার বক্তব্য অনুযায়ী, গণপতির মরদেহ ছিল ছাদে, প্রীতিলতা ও আগামীর মরদেহ দ্বিতীয় তলা থেকে ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং আয়ুশে মরদেহ একটি কক্ষের এক কোণে। ঘরের আসবাব, জামাকাপড়, গয়নাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল।

আরও পড়ুন

রংপুরে চার খুন: মরদেহ পড়ে থাকা ছাদে আলামত নষ্টের অভিযোগ

২৭ আগস্ট ২০২৬

পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আসক প্রতিনিধিদের জানান, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস নিহতদের বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করতে গেলে গণপতি চক্রবর্তী তাদের বাধা দেন। পুলিশের ধারণা, পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তারা একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির ঘটনা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয় বলেও পুলিশ জানায়।

পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাড়িতেই অবস্থান করেন, খাবার খান এবং পরে পরিস্থিতি অনুকূল হলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তদন্তের সূত্র ও আলামতের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয় এবং পরে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বাধীন ও বস্তুগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা যদি সত্যিই ওই বাড়িতে অবস্থান করে থাকেন, খাবার খেয়ে থাকেন বা গোসল করে থাকেন, তাহলে ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ফরেনসিক আলামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কথা।

এ ক্ষেত্রে ঘরের বিভিন্ন স্থান, বাথরুম, ব্যবহৃত পানির উৎস, খাবারের পাত্র, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থান থেকে ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, ত্বকের কোষ, চুলসহ সম্ভাব্য জৈব ও অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রমের সঙ্গে এসব পরীক্ষার ফলাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

রংপুরে চার খুন ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে

২৬ আগস্ট ২০২৬

তদন্তের অগ্রগতি ও ডিবির বক্তব্য

আসক প্রতিনিধি দল রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলে। তিনি জানান, ঘটনার বিভিন্ন দিক ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুলিশের ব্যাখ্যায় বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি সম্ভাব্য সিসিটিভি ক্যামেরায় উপস্থিতি ধরা পড়ার আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও ডিবির পক্ষ থেকে আসক প্রতিনিধিদের জানানো হয়।

তবে বিদ্যুৎসংযোগ কেন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, কখন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, কে বা কারা তা করেছিলেন এবং এর সঙ্গে সিসিটিভি বা হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না- এসব বিষয়ও বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

রংপুরে চার খুনের তদন্তে ডিবি

২৫ আগস্ট ২০২৬

অভিযুক্তদের পরিবারের বক্তব্য

সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস তার ছেলের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্নের কথা আসক প্রতিনিধিদের জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং পুলিশে নেওয়ার সময় তার ছেলের পোশাকসহ কিছু বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাসের মা সেনা রানী দাসও তার ছেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।

অন্যদিকে সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেপ্তার আরেক তরুণ সীমান্ত চন্দ্র দাসের বাবা-মায়ের সঙ্গেও আসক প্রতিনিধি দল কথা বলে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত ঘটনার রাতে বাড়িতে ছিলেন এবং সে রাতে সিদ্ধার্থ দাস কিছু সময়ের জন্য তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তিনি সেখানে রাতযাপন করেননি বলে তারা জানান। এসব বক্তব্যও তদন্তের সময় অন্যান্য তথ্য ও আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মর্গ ও ময়নাতদন্তসংক্রান্ত তথ্য

আসক প্রতিনিধি দল মর্গের ইনচার্জ সাহেব আলী এবং ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডোম যতন কুমারের সঙ্গে কথা বলে। যতন কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহগুলো পচনশীল অবস্থায় ছিল। তিনি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখেননি বলে জানান; তবে শরীরের কিছু অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে তার মনে হয়েছে।

নিহত দুই নারীর শরীরে যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত তার চোখে পড়েনি বলেও তিনি জানান। তবে এ বিষয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মর্গের কর্মীর পর্যবেক্ষণকে চূড়ান্ত চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মতামত হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মৃত্যুর কারণ, আঘাতের ধরন, যৌন সহিংসতার কোনো আলামত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তের জন্য ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক পরীক্ষা ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনই অধিকতর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।

মামলা ও তদন্ত

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম নাজমূল কাদের আসক প্রতিনিধিদের জানান, নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্তের স্বার্থে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন

চার খুনের দায় স্বীকার দুই আসামির

২৪ আগস্ট ২০২৬

আইন ও সালিশ কেন্দ্র(আসক) এর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ

১. একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস এবং জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, ঘটনাক্রম এবং প্রকৃত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত জরুরি।
২. পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যার সঙ্গে নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় নাগরিক ও গণমাধ্যমে উত্থাপিত কিছু প্রশ্নের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করতে বস্তুগত, ডিজিটাল ও ফরেনসিক আলামতের বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।
৩. প্রীতিলতা চক্রবর্তীর নম্বর থেকে রাত ২টা ৪০ মিনিটে তার বোন পূজা চক্রবর্তীর কাছে করা ফোনকলটি বিশেষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। ওই সময় ফোনটি কে ব্যবহার করছিলেন, কলটির স্থায়িত্ব কত ছিল, ফোনটির অবস্থান কোথায় ছিল এবং এরপর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন কখন বন্ধ হয়-এসব তথ্য কল ডিটেইল রেকর্ড, মোবাইল লোকেশন ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। কারণ পুলিশের বর্ণিত হত্যাকাণ্ডের সময়রেখার সঙ্গে এই ফোনকলের সম্পর্ক স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
৪. পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা কিছু সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করেন, খাবার খান এবং গোসল করেন। এমন দাবি সত্য হলে ঘটনাস্থল থেকে ফরেনসিক আলামত পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকার কথা। তাই বাথরুম, খাবারের পাত্র, দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, বিছানা, পোশাকসহ সংশ্লিষ্ট স্থান ও বস্তু থেকে ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, ত্বকের কোষ, চুলসহ সম্ভাব্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে কি না এবং তার ফলাফল কী— তা তদন্তে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
৫. অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়িত হবে। তবে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনে কেবল স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন ও বস্তুগত আলামত, ডিজিটাল তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইলস, ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
৬. বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ কখন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, সেটিও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে সিসিটিভি, অভিযুক্তদের চলাচল এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা প্রযুক্তিগত আলামতের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
৭. মর্গসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তা দূর করার জন্য ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকাশ করা জরুরি।
৮. নিহত পরিবারের স্বজনরা পুলিশের প্রাথমিক ব্যাখ্যা নিয়ে যেসব প্রশ্ন ও উদ্বেগ জানিয়েছেন, সেগুলোকে অমূলক বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে উড়িয়ে না দিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে পুলিশ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, সেটিও স্বাধীন আলামতের ভিত্তিতে যাচাই হওয়া জরুরি।
৯. তদন্তভার ডিবিতে হস্তান্তর হওয়ায় ঘটনাটির সব দিক নতুন করে, নিরপেক্ষভাবে ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা সম্ভাব্য ঘটনার সূত্র যেন পূর্বধারণার কারণে তদন্তের বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আসকরংপুরে চার খুনগণপতি চক্রবর্তী
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    গণি রোড থেকে সরছে সচিবালয়, বসবে আদালত

    গণি রোড থেকে সরছে সচিবালয়, বসবে আদালত

    বেতন নাকি শেখার সুযোগ— কোনটি বেছে নেবেন

    বেতন নাকি শেখার সুযোগ— কোনটি বেছে নেবেন

    মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন বীথির স্বামী

    মামলা না করার শর্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টাকা নেন বীথির স্বামী

    বিএনপির এমপির সুপারিশে মাদ্রাসার সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

    বিএনপির এমপির সুপারিশে মাদ্রাসার সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

    ‘একটা আইসিইউ সিটের জন্য শ খানেক ফোন করেছি’

    ‘একটা আইসিইউ সিটের জন্য শ খানেক ফোন করেছি’

    শেকৃবির হল ক্যান্টিনে পোড়া তেল ব্যবহারের অভিযোগ

    শেকৃবির হল ক্যান্টিনে পোড়া তেল ব্যবহারের অভিযোগ

    প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত দুটোই জরুরি

    প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত দুটোই জরুরি

    সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ

    সাজেক ভ্যালি বন্ধ ঘোষণা, পর্যটকদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ

    ব্যাগ হারানো জার্মান পর্যটককে ল্যাপটপ উপহার

    ব্যাগ হারানো জার্মান পর্যটককে ল্যাপটপ উপহার

    সড়ক অবরোধ সাজেকে, আটকা দুই হাজার পর্যটক

    সড়ক অবরোধ সাজেকে, আটকা দুই হাজার পর্যটক

    দেশের জ্বালানিতে এখন শুধুই যুক্তরাষ্ট্র

    দেশের জ্বালানিতে এখন শুধুই যুক্তরাষ্ট্র

    ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানা গেল নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ

    ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানা গেল নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ

    প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা পড়ালেন সাবেক মেয়র বেলাল

    প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা পড়ালেন সাবেক মেয়র বেলাল

    রবিঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি : আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে

    রবিঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি : আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে