রংপুরে চার খুন ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে
- পুলিশের বক্তব্যে বিতর্ক
- তদন্তের দায়িত্ব ডিবিতে

রংপুরে নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও বেশি স্বচ্ছ তদন্তের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। গত সোমবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জী গোয়েন্দা পুলিশের অফিসে এসে মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিন্নাত আলীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র হস্তান্তর করেছেন।
এর আগের দিন রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেছিলেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে ওই বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি বাড়ির মালিক গণপতি চক্রবর্তী দেখে ফেলায় অপরাধ ঢাকতেই একে একে পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির ভেতরেই গোসল করে ফ্রিজ থেকে খাবার খায় এবং শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ঘাতকরা সেখান থেকে সটকে পড়ে।
তার এই বক্তব্যের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অধিকতর তদন্তের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশে। এর পেছনে মূল অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার দাবি তাদের। সমালোচনার মধ্যেই মামলার তদন্তভার থানার কাছ থেকে ডিবিতে দেওয়া হয়েছে।
ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত দুই অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত সূত্রে জানতে পেরেছি পুলিশ কমিশনার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা তারা বলেছেন। তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তও করেছেন, যেটা আমাদের বলেননি।’ মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক জিন্নাত আলী এখন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার জন্যই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবেন।’
গত শনিবার রাতে বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার ভোরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো নগরীর মাছয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস পুলিশের কাছে ছোট ছোট কিছু বিষয় হাইড করলেও আদালতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ ঠিকভাবেই তদন্ত করছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া যাবে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি জিন্নাত আলী গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, মামলার বিষয়ে দ্রুতই ভালো খবর পাবেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।’ তিনি আরও বলেছেন, অভিযুক্ত দুজনই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছে। তারপরও আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।






