রাজবাড়ীর ইউএনওর গাড়িচালকের একাধিক সনদ, তিন জন্মতারিখ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সরকারি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন জন্মতারিখ সংবলিত একাধিক সনদ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসংগতি পাওয়া গেছে শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিতেও। অনুসন্ধানে তার জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নথিতে জন্মতারিখ এবং অন্যান্য তথ্যের মধ্যে ব্যাপক গরমিল পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মী হিসেবে যোগদানের সময় আলাউদ্দিন ফকির নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করে ভিন্ন জন্মতারিখের একটি জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেন। এর আগে কয়েক মাস জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিভিন্ন সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮২। চাকরির জন্য দাখিল করা একটি জন্মনিবন্ধন সনদে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ২৭ জুলাই ১৯৯৫।
আরও একটি জন্মনিবন্ধন সনদে তার জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮২ উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ১৯৮২ সালের জন্মতারিখ সংবলিত জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন থাকার পরও ১৯৯৫ সালের জন্মতারিখের আরেকটি জন্মনিবন্ধন কীভাবে তৈরি হলো। এ ছাড়া বিআরটিএর একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ড্রাইভিং লাইসেন্সে আলাউদ্দিনের জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ১ অক্টোবর ১৯৭০। শুধু বয়স-সংক্রান্ত নথিই নয়, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মহেন্দ্রপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালে অষ্টম শ্রেণি পাসের একটি সনদ সংগ্রহ করেন তিনি। এর কিছুদিন পর একই শিক্ষাবর্ষের আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিও সামনে আসে। ২০২০ সালের মার্চে তিনি রাজবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৯ সালের একটি ছাড়পত্র সংগ্রহ করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আলাউদ্দিন ফকিরের ভাষ্য, তিনি রাজবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং তার জন্মতারিখ ১৯৯৫। ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১৯৭০ সালের জন্মতারিখ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘ওটা ব্যাকডেটে হয়তো অনেক আগে করা ছিল।’
মহেন্দ্রপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন কি না— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এটা দেখতে হবে।’ তার নামে একাধিক জন্মনিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের বিষয়ে জানতে চাইলে আলাউদ্দিন বলেছেন, ‘হয়তো কেউ আমার নামে তুলতে পারে।’
বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন।







