আগামী বছর মিয়ানমারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করবে রাশিয়া

মিয়ানমারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য ডিজাইন প্রকাশ করেছে রোসাটম
মিয়ানমারে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০২৭ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু করার আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সাম্প্রতিক মস্কো সফরের পর এমন ঘোষণা দিল রোসাটম। সফরে রাশিয়ার জ্বালানি বিনিয়োগ টানার জোর প্রচেষ্টা চালান তিনি।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেছেন, ‘আমাদের একটি সামগ্রিক চুক্তির কাঠামো রয়েছে। আমরা নির্মাণস্থলে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। মূল অর্থে এটিই কিন্তু নির্মাণের সূচনা।’
২০২৫ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত একটি আন্তঃসরকার চুক্তিতে ১১০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে দুটি রিয়্যাক্টর থাকবে। পরবর্তী সময়ে এর ক্ষমতা ৩৩০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাশিয়ার পারমাণবিক আইসব্রেকার জাহাজে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টরগুলোর আদলে তৈরি ‘RITM-200N’ চাপযুক্ত পানির রিয়্যাক্টর এখানে ব্যবহার করা হবে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন গত সপ্তাহে বলেছিলেন, প্রকল্পটি রাশিয়া-মিয়ানমার বন্ধুত্বের এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠবে।
এই মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মস্কো সফর করেন মিন অং হ্লাইংয়। সফরে তার রুশ সমকক্ষ ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে উভয় দেশের অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন।
জান্তা সরকার ২০২৩ সালে ইয়াঙ্গুনে একটি নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন সেন্টার চালু করে। গত বছর পারমাণবিক নিরাপত্তা ও বিকিরণ সুরক্ষার বিষয়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে।
তবে চরম আর্থিক সংকটে থাকা এই জান্তা সরকার কীভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় মেটাবে তা স্পষ্ট নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি রুশ সরকারের কাছ থেকে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের বোঝা নিতে পারে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আয় শুরু হলে এই ঋণ পরিশোধ করা হবে। অথবা মিয়ানমারের প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের মাধ্যমেও এর মূল্য পরিশোধ করা হতে পারে।
মডুলার ডিজাইনের কারণে প্রকল্পটি শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, নেপিদোর কাছাকাছি এলাকায় বানানো হবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে বিশ্লেষকরা এখানে মারাত্মক ঝুঁকির সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বর্তমানে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে একটি নৃশংস যুদ্ধে লিপ্ত। এর ফলে মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে রাশিয়া ও মিয়ানমার অস্ত্র ও জ্বালানি থেকে শুরু করে পরিকাঠামো পর্যন্ত তাদের কৌশলগত সহযোগিতা বাড়িয়েছে। উভয় সরকারই বর্তমানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। ফলে এই পারমাণবিক শক্তি তাদের যৌথ অংশীদারিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া এবং লাওসের কাছেও পারমাণবিক প্রযুক্তি বিক্রি করছে রোসাটম।
তথ্যসূত্র: দ্য ইরাবতী








