নেপালে মৃত বেড়ে ৫৪৭, নতুন বন্যার শঙ্কা

দুর্যোগকবলিত নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। ছবি: রয়টার্স
নেপালে বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন।
নেপাল পুলিশ শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত চিতওয়ান জেলায় ২২১টি এবং নওয়ালপরাসি ইস্ট জেলায় ১৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগের মরদেহ বন্যার পানিতে ভেসে দূরবর্তী এলাকায় চলে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
চিতওয়ানের জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বলেছেন, অনেক মরদেহের অবস্থা ভালো নয়। স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় মরদেহ রাখার জন্য একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ধার ও মরদেহ খোঁজার কাজ আরও জোরদার করেছে নেপাল সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, রসুয়া থেকে চিতওয়ান পর্যন্ত নদীর তীর এবং বন্যাকবলিত সম্ভাব্য সব এলাকায় ১ হাজার ২০০ সদস্যের একটি অতিরিক্ত দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবল স্রোত ও দুর্গম ভূখণ্ডের মধ্যেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ বিভাগ আরও জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৪৭৩ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর নেপাল প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, বন্যায় প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
ফিশার বলেছেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দফার বন্যা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’ জরুরি জীবনরক্ষাকারী তৎপরতায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক রেডক্রস ২ কোটি ৫০ লাখ সুইস ফ্রাঁর জরুরি তহবিল চেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের পুরো বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে নেপালে চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম এখন ‘সংকটজনক পর্যায়ে’ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রাথমিক বন্যায় সৃষ্ট ভূমিধসে আটকে থাকা একটি হ্রদে পানির স্তর বেড়ে গেছে এবং সেটি উপচে পড়তে শুরু করেছে। এতে বাঁধ ভেঙে আরও বড় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নেপাল ও চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে।
সূত্র : বিবিসি








