বিশ্বের যত ভয়াবহ হিমবাহ দুর্যোগ

ছবি: রয়টার্স
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা হয়। বুধবারের এ দুর্যোগে এতে অন্তত ৪৬৯ জন মারা গেছেন। আরও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।
ইতিহাসে হিমবাহ ধস ও হিমবাহের হ্রদ ভেঙে সৃষ্ট কয়েকটি ভয়াবহ দুর্যোগের তালিকা নিচে দেওয়া হলো :
১৯৪১ — হুয়ারাজ, পেরু
হিমবাহের হ্রদ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে উত্তর পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার শহর হুয়ারাজের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে যায়। মারা যান আনুমানিক ৫ হাজার মানুষ। ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিমবাহজনিত দুর্যোগগুলোর একটি এটি।
১৯৬২ — রানরাহিরকা, পেরু
পেরুর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট হুয়াসকারান থেকে বিশাল বরফের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে ১ কোটি ঘনমিটার পাথর, বরফ ও তুষার মাত্র সাত মিনিটে পাহাড় বেয়ে নিচে নেমে আসে।
১২ মিটার পর্যন্ত কাদা ও ধ্বংসাবশেষে রানরাহিরকা গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি বসতি চাপা পড়ে। আনুমানিক ৪ হাজার মানুষ মারা যান।
১৯৭০ — ইয়ুঙ্গাই, পেরু
৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে মাউন্ট হুয়াসকারানের উত্তর পাশের বরফ ও পাথর অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এরপর বিশাল হিমবাহ ও পাথরের স্তূপ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৩৫ কিলোমিটার গতিতে ইয়ুঙ্গাই ও রানরাহিরকার দিকে ছুটে যায়।
কাদা ও ধ্বংসাবশেষে দুই শহর চাপা পড়ে। এতে আনুমানিক ২৫ হাজার মানুষ মারা যান। ওই ভূমিকম্পে মোট প্রাণহানি ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।
১৯৮১ — সিরেনমা কো, তিব্বত
চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরের হিমবাহের হ্রদ সিরেনমা কো-তে ওপর থেকে ঝুলে থাকা বরফের একটি বিশাল অংশ পড়ে। এতে হ্রদের পানি বাঁধের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে নেমে যায়।
প্রায় ২ কোটি ঘনমিটার পানি, বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নেপালের দিকে ছুটে যায়। এতে আনুমানিক ২০০ মানুষ মারা যান। সেতু, সড়ক, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর প্রায় ৪০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়।
২০২১ — চামোলি, ভারত
ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত নন্দাদেবীর কাছে রন্টি পিক থেকে বরফের বিশাল একটি অংশ ভেঙে পড়ে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার নিচে উপত্যকার দিকে পাথর, ধুলা ও বরফের প্রবল স্রোত নেমে আসে।
এর ফলে উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভয়াবহ বন্যা হয়। ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। গ্রাম ও দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে যায়।
২০২৬ — নেপাল-তিব্বত সীমান্ত
হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিচের অংশ ধসে উপত্যকার তলায় আছড়ে পড়ে। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ লহেন্দে খোলা নদী দিয়ে পাহাড়ি সীমান্ত এলাকায় নেমে আসে।
তিব্বতের গিয়েরং বন্দর হয়ে এই স্রোত নেপালে ঢোকে। প্রবল বন্যায় সড়ক, বিদ্যুৎ প্রকল্প ও গ্রাম ভেসে যায়।
নেপাল ও তিব্বতে ১ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। নেপাল পুলিশের হিসাবে মৃতের সংখ্যা হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সূত্র : রয়টার্স







