বাহিনী যদি দায় স্বীকার না করে গুমের তদন্ত করবে কে
- মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার দাবি

সংগৃহীত ছবি
গুমের সঙ্গে জড়িত কোনো বাহিনী যদি সেটা পরে স্বীকার না করে, তাহলে গুমসংক্রান্ত বিষয়ের তদন্তভার কাদের ওপর বর্তাবে, সে প্রশ্ন তুললেন সংসদ সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন। গুমসংক্রান্ত খসড়া আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, ‘গুমসংক্রান্ত খসড়া আইনে বলা হচ্ছে, শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী করতে পারবে না, উক্ত ক্ষেত্রে অভিযুক্ত বাহিনী ব্যতিরেকে অন্য কোনো বাহিনীর কাছে অর্পণ করতে পারবে। কিন্তু আগে তো বুঝতে হবে, গুম করেছে কোন বাহিনী? কেউ কী স্বীকার করবে যে তিনি বা তার বাহিনী গুম করেছে?’ গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত আলোচনায় এসব কথা বলছিলেন মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সংসদ সদস্য আহমেদ বিন কাশেম আরমান বলছিলেন, ‘বিপ্লব-পরবর্তী নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় আমরা সংসদে এসেছি; কিন্তু আসলে কী পরিবর্তন হলো? আজকে আবারও বাবার সন্ধানে তার ছুবি বুকে নিয়ে মিরাজ শেখের সন্তানকে যদি দাঁড়াতে হয়, তাহলে এই বিপ্লবের অর্থ কী?’
মানবাধিকার কমিশনের হাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুমের ঘটনা তদন্তের কার্যকর ক্ষমতা না থাকলে এমন আইন থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো বলে মন্তব্য করলেন গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত সভায় তিনি বললেন এসব কথা।
মানবাধিকার ও গুমসংক্রান্ত দুই বিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে দেওয়ার বিষয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে এই আলোচনায়। নূর খান লিটনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুমের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে তদন্তের ক্ষমতা দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলছিলেন, ‘তদন্ত করার প্রক্রিয়াটা যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে আসলে একভাবে ধোঁকা দেওয়া হবে সবাইকে। কারণ, নিজের বিচার কখনো নিজে করা যায় না।’







