দিনে দহন, রাতে হিমশীতল ঠান্ডা
তাঁবু-কম্বলহীন সেউতায় অভিবাসীদের বেঁচে থাকার লড়াই!
আগামীর সময় ডেস্ক

ছবি: রয়টার্স
ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়েও স্বস্তি নেই। স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় সাম্প্রতিক অভিবাসী ঢলের পর হাজারো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। মাথার ওপর নেই পর্যাপ্ত ছাউনি, নেই পর্যাপ্ত কম্বল—দিনের তীব্র গরম আর রাতের কনকনে ঠান্ডার মধ্যে টিকে থাকাই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ।
সেউতার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে সৈকত ও খোলা জায়গাগুলোতে বহু অভিবাসী অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। তাদের অনেকের কাছেই নেই নিরাপদ ঘুমানোর জায়গা, পর্যাপ্ত পোশাক কিংবা প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন সুবিধা।
সৈকতই এখন আশ্রয়
খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন বহু অভিবাসী। দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরমে শরীর পুড়ছে, আবার রাত নামলেই সমুদ্রের পাশের ঠান্ডা বাতাসে শুরু হচ্ছে আরেক ধরনের দুর্ভোগ।
অনেকের অভিযোগ, সংকটের শুরুতে খাবার ও পানিরও তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। পরে স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক সহায়তা সংগঠনগুলোর উদ্যোগে খাবার ও পানি সরবরাহ কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
শিশুদের নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীরা। তাদের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কিছু শিশুকে খোলা জায়গায় রাত কাটাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিবাসীদের অনেকে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তা থেকে পালিয়ে ইউরোপে নিরাপদ জীবনের আশায় এসেছেন। কিন্তু সিউতায় পৌঁছেও তাদের সামনে এখন নতুন অনিশ্চয়তা—কোথায় থাকবেন, কী খাবেন এবং কতদিন এভাবে অপেক্ষা করতে হবে।
মানবিক সহায়তায় এগিয়ে স্থানীয়রা
সরকারি ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক অভিবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ খাবার ও পানি দিচ্ছেন, কেউ পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। কেউ আবার অস্থায়ীভাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছেন।
তবে এত মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিবাসন সংকট ঘিরে নতুন প্রশ্ন
সিউতার পরিস্থিতি শুধু অভিবাসন বা সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি এখন বড় ধরনের মানবিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে। একদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন, অন্যদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের মৌলিক মানবিক অধিকার—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ইউরোপের সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এসব মানুষের গল্প তাই শুধু সীমান্ত পেরোনোর গল্প নয়; এটি নিরাপদ আশ্রয়, মানবিক মর্যাদা এবং বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে গভীর এক সংকেত।
ভাষান্তর: হারিসুল ইসলাম সজিব, নিউইয়র্ক প্রতিনিধি





