অভিবাসন কমাতে ‘শেনজেন লক’ চান এদুয়ার ফিলিপ

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মধ্য ডানপন্থী প্রার্থী এদুয়ার ফিলিপ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ‘শেনজেন লক’ চালু, জরুরি পরিস্থিতিতে আশ্রয় আবেদন স্থগিত এবং ফ্রান্সের মায়োত ও ফ্রেঞ্চ গায়ানায় কয়েক বছরের জন্য নতুন আশ্রয় আবেদন গ্রহণ বন্ধের প্রস্তাব।
ফিলিপের প্রস্তাবিত ‘শেনজেন লক’ ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্যদেশ যাতে এককভাবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিয়মিত বা বৈধতা দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। নির্দিষ্ট সীমার বেশি অভিবাসীকে নিয়মিত করার আগে ইউরোপীয় পর্যায়ে অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখার কথা বলেছেন তিনি।
সোমবার দেওয়া বক্তব্যে ফিলিপ বলেন, একটি দেশের সিদ্ধান্তের প্রভাব যেন পুরো শেনজেন অঞ্চলের ওপর না পড়ে, সে জন্য ইউরোপীয় পর্যায়ে অভিন্ন ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সেউতা পরিস্থিতির পর ফিলিপ তাঁর এই প্রস্তাব সামনে আনেন। স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনা ইউরোপের সীমান্ত ও আশ্রয় ব্যবস্থাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ফিলিপের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের বর্তমান ব্যবস্থায় আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আশ্রয় ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন চান ফিলিপ। ইউরোপের কোনো সীমান্তে অস্বাভাবিক অভিবাসন চাপ বা ‘হাইব্রিড হামলা’ দেখা দিলে নতুন আশ্রয় আবেদন নিবন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য একটি ইউরোপীয় জরুরি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের মায়োত ও ফ্রেঞ্চ গায়ানার ক্ষেত্রেও তাঁর পরিকল্পনা কঠোর। এসব অঞ্চলে অভিবাসন চাপ কমাতে কয়েক বছরের জন্য নতুন আশ্রয় আবেদন গ্রহণ স্থগিত করার কথা বলেছেন তিনি।
অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ফিলিপ বলেছেন, ফ্রান্সের অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তবে যাদের ফ্রান্সে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
অভিবাসন ইস্যুতে ফিলিপের অবস্থানকে তাঁর ২০২৭ সালের নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফ্রান্সে অভিবাসন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে ফিলিপের প্রস্তাবিত ‘শেনজেন লক’ এখনো কোনো কার্যকর আইন নয়। এটি তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ। বাস্তবায়ন করতে হলে ফ্রান্সের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোর সমর্থন এবং প্রয়োজনীয় ইউরোপীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ফলে ফ্রান্সে এখনই ‘শেনজেন লক’ চালু হয়েছে এমন কোনো তথ্য নেই। আপাতত এটি এদুয়ার ফিলিপের প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতির একটি অংশ।




