ব্রেক্সিটের ছয় বছর পর নতুন মোড়
ইইউতে ফেরার প্রশ্নে সরব ব্রিটেনের ক্ষমতাসীনরা
- লিভারপুলে আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সম্মেলন ভাষণ বার্নহ্যামের
- মন্ত্রীদের দাবি, আলোচনা এখন ‘হবে কি না’ নয়, ‘কীভাবে হবে’, তবে আনুষ্ঠানিক নীতি বদলের ঘোষণা এখনো নেই

ইইউয়ে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করার সুর ব্রিটিশ মন্ত্রীদের
ব্রেক্সিট এক দিনে হয়নি, তার পরের পথও এক দিনে বদলাবে না। কিন্তু লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনে যে ভাষা শোনা যাচ্ছে, তাতে ছয় বছর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া ব্রিটেনের রাজনীতিতে আবার সদস্যপদের প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখনো ইইউতে ফেরার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে তার সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছেন, পরের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্র।
সোমবারের (২৯ সেপ্টেম্বর) একান্ত প্রতিবেদনে এক মন্ত্রী বলেছেন, আলোচনা এখন ‘হবে কি না’ নয়, ‘কীভাবে হবে’ তা নিয়ে। সরাসরি ইইউতে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, নাকি পুনঃযোগদান নিয়ে আলোচনার ভাষা ব্যবহার করা হবে, সেটি এখনো ঠিক হয়নি। আরেক মন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিক ঝুঁকি না থাকলে তিনি দ্রুত ফেরার পক্ষেই থাকতেন, তবে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকের প্রতিক্রিয়াও সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। এগুলো নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রীদের বক্তব্য, সরকারের ঘোষিত নীতি নয়।
বার্নহ্যাম নিজেও গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সফরের সময় পরের ইশতেহারে ইইউতে ফেরার প্রস্তাব থাকবে কি না, তা নাকচ করেননি। এর আগে তিনি ব্রেক্সিটের পরের দশককে ‘দিকহীনতা ও বিভাজন’ তৈরির সময় বলে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার লিভারপুলে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তা র প্রথম লেবার সম্মেলন ভাষণে তিনি দেশের জন্য ‘খুব স্পষ্ট পথ’ তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন।
ইউরোপ নিয়ে সুর বদলের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। সম্মেলনে তিনি বলেছেন, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ‘আরও শক্তিশালী ও গভীর অংশীদারত্বে’। লেবারের ইউরোপপন্থী অংশের নেতা স্টেলা ক্রিসিও আগামী ছয় মাসের মধ্যেই পুনঃযোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে বাস্তব আলোচনা শুরু করার পক্ষে কথা বলেছেন। কয়েকজন মন্ত্রী আবার আশঙ্কা করেছেন, ইইউর প্রস্তাবিত ‘মেড ইন ইউরোপ’ নীতি ব্রিটেনকে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা বাজারের কিছু অংশ থেকে দূরে ঠেলে দিতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা রয়েছে। গত আগস্টেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট বলেছিল, বর্তমান ইশতেহারের অবস্থান বহাল আছে, অর্থাৎ এই মেয়াদে ইইউ, একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে ফেরা এবং অবাধ চলাচল পুনর্বহালের পরিকল্পনা নেই। ফলে আজ বার্নহ্যাম কত দূর ভাষা বদলান, সেটিই নজরের বিষয়।
আর ব্রিটেন চাইলে একাই ইইউতে ফিরতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তির ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন করে আবেদন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি এবং সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদন ও অনুসমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ লিভারপুলে রাজনৈতিক দরজা খুললেও ইইউর পথ হবে দীর্ঘ ও আলোচনা সাপেক্ষ।



