শিক্ষিত বেকারদের সহায় সুজন

শিক্ষিত বেকারদের ক্লাস করাচ্ছেন শরিফুল ইসলাম সুজন
অভাবী ঘরের শিক্ষিত বেকারদের চাকরি নিয়ে ভাবেন শরিফুল ইসলাম সুজন। এজন্য তিনি চাকরি পদপ্রার্থীদের আবেদন ফি, চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনাসুদে ঋণ দেন।
তিন বছর ধরে তার গড়া সুজন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি শতাধিক শিক্ষিত বেকারকে এই ঋণ দিয়েছেন; যাদের বেশিরভাগই বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এ ছাড়া ‘জব চ্যালেঞ্জ কোর্স’ চালুর মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের দক্ষ করে গড়ে তুলছেন, যেখানে চাকরি পাওয়ার পর কোর্স ফি পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তার এই উদ্যোগ এলাকার শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সুজন রংপুর নগরীর আলমনগরের হেলাল জুট প্রেস এলাকার বাসিন্দা দবির উদ্দিনের ছেলে। কারমাইকেল কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করে অনেক চেষ্টার পরও চাকরি জোটেনি। বর্তমানে একটি নার্সিং ও ভার্সিটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন তিনি।
তিন বছর আগে রংপুর নগরীর খামার মোড় এলাকায় ‘সুজন ফাউন্ডেশন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি চালু করে তিনি মানুষের কল্যাণে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছেন। সুজন জানালেন, লেখাপড়া শেষ করে ভালো কিছু করার স্বপ্ন থাকে সবার। ইচ্ছা থাকলেও পুঁজি না থাকায় উদ্যোক্তা হতে পারেন না অনেকেই। আর্থিক সংকটে কেউ কেউ সময়মতো আবেদন করাসহ চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। তাদের জন্য চালু করা হয়েছে সুদমুক্ত ঋণ। তবে শর্ত থাকে, সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেককে একটি করে গাছের চারা রোপণ করতে হবে। এ পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষিত বেকার ঋণ নিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই চাকরি পেয়েছেন এবং ঋণ পরিশোধ করেছেন। চলতি বছর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জব চ্যালেঞ্জ কোর্স’ চালুর মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। তারা এই কোর্স ফি পরিশোধ করবেন চাকরি পাওয়ার পর। এ ছাড়া সুজন ফাউন্ডেশন মেধাবী ও এতিমদের বিনামূল্যে কোচিং করানোসহ ভর্তি ফরম পূরণে সহায়তা করে আসছে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অন্তত ১০ জন অসহায় ব্যক্তিকে দোকান ও ভ্যান কিনে দিয়েছেন সুজন। এ ছাড়া গত ঈদে ৭৫ পরিবারকে ঘর করে দেওয়াসহ ঈদবাজার করে দিয়েছেন।
সরেজমিনে সুজন ফাউন্ডেশনে দেখা যায়, চাকরির প্রস্তুতি হিসেবে জব চ্যালেঞ্জ কোর্সে অংশ নিচ্ছেন ২৫ শিক্ষিত বেকার। আর ক্লাস নিচ্ছেন উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম সুজন।
রংপুরের বুড়িরহাট এলাকার কুলসুম আক্তার নিপু বললেন, ‘প্রতিযোগিতার যুগে চাকরির প্রস্তুতি হিসেবে অবশ্যই কোর্স করা দরকার। কিন্তু আমার সেই আর্থিক সংগতি ছিল না। সুজন ফাউন্ডেশন সে সুযোগ করে দিয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর কোর্স ফি ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।’
১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চাকরির আবেদনসহ পরীক্ষা দিয়েছিলেন মোহসীন আলম সামি। তিনি এখন রংপুরের মিঠাপুকুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি জানালেন, সুজন দরিদ্র পরিবারের শিক্ষিত বেকারদের চাকরি পেতে অবদান রাখছেন।
সুজনের ভাষ্য, ‘হঠাৎ চাকরির আবেদন করতে হবে কিংবা ইন্টারভিউ দিতে ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে সুদমুক্ত ঋণ দিই। এ ছাড়া গরিব চাকরিপ্রত্যাশীদের দক্ষ করে তুলতে চালু করা হয়েছে জব চ্যালেঞ্জ কোর্স। লক্ষ্য, যোগ্যতা অনুযায়ী সবার একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হোক।’
এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ফাতেমা বিনতে ইসলাম নাজ বললেন, সমাজে অনেক মানুষ আছেন, যারা মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। শরিফুল ইসলাম সুজন তেমনি একজন, যার দেওয়ার কিছু নেই, তবে ভাবনা আছে সবাইকে এগিয়ে নেওয়ার।




