আজতেকায় জিতে উড়ছে ইংল্যান্ড

ম্যাচে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক বেলিংহাম।
৮৫ হাজার দর্শক, তীব্র গরম, অনেক উচ্চতা, মেক্সিকো; ইংল্যান্ডের সামনে ছিল কার্যত চার প্রতিপক্ষ। আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংলিশরা ফিরেছিল ৪০ বছর পর। ডিয়েগো ম্যারাডোনার কাছে সেই হারের স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় ইংলিশদের। অবশেষে ফুরাল সেই অপেক্ষা। নাটকীয় এক ম্যাচে স্বাগতিকদের ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে হ্যারি কেইনের দল।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার আজতেকা স্টেডিয়ামে পা রেখেছে ইংলিশরা। সেবার ম্যারাডোনার একক নৈপুণ্যে হারলেও এবার তাদের হতাশ হতে দেননি জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইন জুটি। বেলিংহামের জোড়া গোল ও কেইনের রেকর্ড গড়া গোলে মেক্সিকো বাধা উতরে গেছে থ্রি লায়ন্সরা।
স্বাগতিক মেক্সিকো কিন্তু হাল ছাড়েনি শেষ মিনিট পর্যন্ত। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ফিরে এসেছে তারা। ভাগ্য সহায় হলে আর ইংলিশ কিপার পিকফোর্ডের হাত ফসকালে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত!
ভাগ্য পাশে ছিল ইংল্যান্ডেরই। ১০ জনের দল নিয়েও পা হড়কায়নি তারা। আজতেকার উচ্চতা, তীব্র গরম কিংবা প্রায় লাখের কাছে আসা মেক্সিকান সমর্থকদের গর্জন— সবকিছু বাগে এনে কেইনের দল এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচের শুরু থেকেই গ্যালারির প্রবল চাপ আর অক্সিজেনের ঘাটতি পরীক্ষা নিচ্ছিল ইংলিশদের। কিন্তু বেলিংহামের মাথায় তখন ঘুরছিল অন্য পরিকল্পনা। ৩৬ মিনিটে হ্যারি কেনের চমৎকার পাস বাতাসে ভেসে আসার মুহূর্তেই চিতার ক্ষিপ্রতায় হেড নেন বেলিংহাম। বল জালে জড়াতেই স্তব্ধ আজতেকা। প্রথম গোলের রেশ কাটার আগেই, ঠিক ৯৮ সেকেন্ড পর আবারও মেক্সিকান রক্ষণকে চূর্ণ করে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
দলের এমন ঘুরে দাঁড়ানোয় গর্বিত কোচ টমাস টুখেল, ‘আমি দলের মানসিকতা ও মনোভাব নিয়ে গর্বিত। শেষ ৩২, শেষ ১৬ টুর্নামেন্টের এমন একটা ধাপ যেখানে জয়ের পথ খুঁজে নিতে হবে। অদম্য মানসিকতা ও মনের জোর দিতে আমরা সেটা করেছি। আমাদের সামনে ছুড়ে দেওয়া প্রতিটি বাধা পার করেছি। আমি দলের মানসিকতা ও ইচ্ছাশক্তি নিয়ে খুবই গর্বিত।’
সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন টুখেল, ‘এই মুহূর্তটা আমাদের মনে গেঁথে রাখা উচিত। এটা আজতেকা স্টেডিয়াম, এটা মেক্সিকো, পাগলাটে একটা ম্যাচ হলো। আমাদের প্রত্যেকে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। এই অনুভূতিটা ধরে রাখতে হবে, এখন আমাদের পুরো শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।’
ম্যাচে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক বেলিংহাম। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত কিন্তু তৃপ্ত বেলিংহাম বলেছেন, ‘আজ (গতকাল) রাতে আমরা অবিশ্বাস্য কিছু একটা করে দেখিয়েছি, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বিমানের ভেতর গলা না ভাঙা পর্যন্ত আমরা গান গাইব, আনন্দ করব। এরপর দুদিন রিকভারি করে সোজা নরওয়ে ম্যাচের দিকে মন দেব।’




