আকাশি আশা
মেসি মহাকাব্যের মিসর অধ্যায়
- বাধা ফারাও রাজা

লিওনেল মেসি
একে একে বিদায় নিচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। পাঁচবারের সেরা ব্রাজিলকে শেষ ষোলো থেকে বিদায় করেছে নরওয়ে। চারবারের সেরা জার্মানি প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যায় তারও আগে, শেষ ৩২-এ। দুবারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে তো গ্রুপ পর্বেই বাদ। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হবে মিসরের। এবার আর্জেন্টিনা মানে পুরোপুরি মেসিময় একটি বিশ্বকাপ। ‘ম্যাজিক্যাল মেসি’ মহাকাব্যের আজ মিসর খণ্ড।
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের বাজি অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষে; ৬৯.১ শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে অপ্টা। অতীতও এগিয়ে রাখছে আর্জেন্টিনাকে। আগের পাঁচ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ ভালোভাবেই উতরে গিয়েছিল তারা। তবে এক আসরে তিন আফ্রিকান প্রতিপক্ষকে হারানোর রেকর্ড নেই কোনো দলের। এতে দুশ্চিন্তা বাড়তেই পারে আর্জেন্টাইনদের। মিসরের ধারাবাহিক গোলের রেকর্ডটাও কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে স্কালোনির। মিসর তাদের শেষ ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করেছে। ৮ গোলের বিপরীতে অবশ্য হজম করেছে ৯টি।
এ বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি ম্যাচের আগেই অনন্য সব রেকর্ডের হাতছানি থাকে এবং জাদুকরী খেলায় ফি ম্যাচেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ায় মেতেছেন মেসি। এ ম্যাচেও থাকবে তেমন অনেক সুযোগ। শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করে এ আসরে সেরা গোলদাতার তালিকার শীর্ষস্থানটা অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন মেসি। তার ৭ গোলের রেকর্ডটা অবশ্য পরে ছুঁয়েছেন ফরাসি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়েজিয়ান আর্লিং হলান্ড।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলে দুই বিশ্বকাপে কমপক্ষে ৭ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ওঠে মেসির নাম। পরদিন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোল করে এমবাপ্পেও সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করেন। মেসি আজ এক গোল করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি গুইলারমো স্তাবিলের এক বিশ্বকাপে ৮ গোল করার রেকর্ড।
একই সঙ্গে এক আসরে প্রথম পাঁচ ম্যাচে গোল করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হবেন মেসি; যোগ দেবেন ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ফরাসি জুস্ত ফঁতেন, ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলিয়ান জার্জিনহো, ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মানির গার্ড মুলার, ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রিভালদো এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেসের তালিকায়।
মায়ামিতে কেপ ভার্দে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি তীব্র গরমেও নাকাল হতে হয়েছিল আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের। মেসি নিজেই স্বীকার করেছিলেন ক্লান্ত হয়ে পড়ার কথা। সে ম্যাচে ফাকুন্দো মেদিনা মারাত্মক ক্র্যাম্প নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। এনসো ফের্নান্দেস (ক্র্যাম্প) এবং নিকো গনসালেসও (গোড়ালি) ছোটখাটো চোট সমস্যায় পড়েছিলেন।
চার দিনের ব্যবধানে মিসর পরীক্ষার জন্য দল প্রস্তুত করতে হচ্ছে স্কালোনিকে, যা কিছুটা কঠিন তার জন্য, ‘সেই ম্যাচে কিছু খেলোয়াড়ের ক্র্যাম্প ছিল তারপরও আমরা এগিয়ে গেছি এবং ভুলগুলো নিয়ে কাজ করছি। চার দিনের ব্যবধান, এর সঙ্গে ভ্রমণ ক্লান্তি। সবকিছুই মানিয়ে চলতে হচ্ছে।’
দল হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনেও আছে নতুন কীর্তি গড়ার সুযোগ। শেষ ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গড়ে অন্তত দুটি করে গোল করেছে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়ের পর একমাত্র দেশ হিসেবে তাদের সামনে টানা ১১ ম্যাচে অন্তত দুই গোল করার নজির গড়ার সুযোগ আছে।
ফারাওরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পেয়েছে শেষ ষোলোর টিকিট। তাদের সামনে এখন পঞ্চম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে ফাইনালে পৌঁছানোর হাতছানি। এর আগে ক্যামেরুন, সেনেগাল, ঘানা (২০১০) এবং মরক্কো এই কীর্তি গড়তে পেরেছিল।
মিসরকে স্বপ্ন দেখান মোহাম্মদ সালাহ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার খেলা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে এই তারকা ১২০ মিনিট খেলেছেন এবং টাইব্রেকারে গোল করেছেন। আর্জেন্টিনার রক্ষণে তাই বড় হুমকি হতে পারেন মিসর অধিনায়ক। দলটির সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসানও দিয়েছেন হুংকার, ‘ওদের হয়তো একজন মেসি আছে, মনে রাখতে হবে আমাদেরও একজন মোহাম্মদ সালাহসহ ২৬ জন মেসি আছে। আমার বিশ্বাস ঈশ্বর আমাদের সম্মানিত করবেন।’
বিশ্বকাপে প্রথম দুদল মুখোমুখি হবে আজ। এর আগে ২০০৮ সালে কায়রোতে একমাত্র মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা টানা আট ম্যাচ জিতেছে। এ বিশ্বকাপেও তারা আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দেকে হারিয়েছে। এবার মিসরকে হারালেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।





