নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র
ফাঁস হতে যাচ্ছে মরিনহোর ক্যারিয়ারের অজানা অধ্যায়

তার নামের সাথে পাকাপাকিভাবে যুক্ত হয়ে গেছে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ উপাধি। ফুটবল বিশ্বে হোসে মরিনহো মানেই বাড়তি উন্মাদনা, বিতর্ক আর তীব্র আকর্ষণ। গত এক দশকে আগের মতো ট্রফির ফোয়ারা না ছুটলেও তার আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। তাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। আবারও রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হিসেবে তার প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করেছে, মরিনহোর সেই ‘বক্স অফিস’ ক্যারিশমা এখনো অটুট।
রিয়ালের কোচ হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরুর প্রাক্কালে এই পর্তুগিজ কোচের ব্যক্তিজীবন ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অজানা অধ্যায় নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি নতুন ডকুমেন্টারি সিরিজ। নেটফ্লিক্সে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিরিজটি পরিচালনা করেছেন জো পার্লম্যান এবং প্রযোজনা করেছেন জন ব্যাটসকে। আগামী ১১ আগস্ট মুক্তি পেতে যাওয়া ‘মরিনহো’ নামের এই তিন পর্বের তথ্যচিত্রটিতে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, মরিনহোর জীবনের সবচেয়ে বড় এবং নাটকীয় তথ্যটি এসেছে সিরিজের শেষ পর্বে। রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম দফার তিন বছরের অধ্যায় শেষের কথা বলতে গিয়ে মরিনহো জানান, ২০১৩ সালে চেলসিতে ফেরার আগে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল যা কেউ জানে না। তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে আমি চেলসিতে যাই, কিন্তু তার আগে এমন একটা সময় ছিল যা কেউ জানে না। আমি মনে করি, কাউকে আঘাত না করে এই সত্যটি প্রকাশ করা যেতে পারে।’
মরিনহো জানান, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অবসরের পর ২০১৩ সালের গ্রীষ্মেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ডেভিড ময়িসকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হলেও মরিনহো নিজেই মত বদলান এবং চেলসিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, রিয়াল মাদ্রিদের পাট চুকানোর পর তার এমন এক জায়গা দরকার ছিল যেখানে তিনি সবার ‘ভালোবাসা’ পাবেন।
তথ্যচিত্রটিতে কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন নিজেও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরিনহোকে ইউনাইটেডের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা গ্রহণও করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ইউটার্ন নেন এবং ফার্গুসনকে ফোন করে জানান যে তিনি তার সিদ্ধান্ত বদলেছেন। এসময় মরিনহো কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানান স্যার ফার্গুসন।
২০২২ সালে রোমার দায়িত্বে থাকার সময় থেকেই এই ডকুমেন্টারির কাজ শুরু হয়। পরিচালক জো পার্লম্যান জানান, মরিনহো মূলত সবার সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই তথ্যচিত্রে অংশ নিতে রাজি হয়েছিলেন। পার্লম্যানের ভাষায়, ‘আমার মনে হয়েছিল তিনি অবস্থান পরিস্কার করতে চেয়েছিলেন। তিনি সবাইকে বলতে চেয়েছিলেন, “আমি হোসে মরিনহো, মনে রাখুন আমি কী করেছি এবং কী করতে যাচ্ছি।” প্রথম যখন তার সঙ্গে কথা হয়েছিল, আমার মনে হয়েছিল তিনি কোনো হিসাব মেটাতে চান।’
তথ্যচিত্রটিতে জন টেরি, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড ও ইকার ক্যাসিয়াসের মতো তার সাবেক শিষ্যদের স্মৃতির পাশাপাশি উঠে এসেছে তার ব্যক্তিগত জীবন। নিজের পরিবার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মরিনহো স্বীকার করেন যে, তার সন্তানেরা তাকে ছাড়া জীবন অনেক বেশি উপভোগ করে। এছাড়া বাবা ফেলিক্স মরিনহোকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা আমার সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন, কারণ সবাই তাকে ভালোবাসত। আমি ভালো মানুষ নই, পরিস্থিতিই আমাকে এমন বানিয়েছে। আমি আমার ক্লাবকে জয় এনে দিতে এসব গর্বের সঙ্গেই করি। আমি নিজেকে বদলাতে চাই না। তাছাড়া এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহোর নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই ডকুমেন্টারি ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ডকুমেন্টারিটি খ্যাতিমান এই কোচের ক্যারিয়ারের অনন্য দলিল হতে যাচ্ছে। শুধু রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার সেই রহস্য নয়, এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা জানতে পারবেন মরিনহোর ভেতরের মানুষটিকে এবং তার ক্যারিয়ারের অনেক না বলা অধ্যায়।







