সলিমপুর ডিগ্রি কলেজ
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি, ক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামিকে কলেজের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে।
এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার সলিমপুর ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত বিপুল হোসেন বুদু মন্ডল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। বুদু উপজলো স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সলিমপুর কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে এজাহারভুক্ত আসামি বুদু মন্ডল প্রধান অতিথি ছিলেন।
কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠে।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম শরীফের ভাষ্য, বর্তমানে তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন। গত ১৯ আগস্ট রাতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ও কুপিয়ে যখম করা হয়। ঘটনার ১ সপ্তাহ পর তিনি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় বিপুল হোসেন বুদুকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। প্রশাসন তাকে এতদিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অথচ তিনি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বসে আছেন।
সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহমতুল্লাহ জানালেন, বিপুল হোসেন বুদু সলিমপুর কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে কলেজের পক্ষ থেকে তাকে দাওয়াত করা হয়েছিল। তিনি তার নিজ প্রটোকলে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। এখানে তিনি কোনো মামলার আসামি সেটা তাদের জানার বিষয় না।
অভিযুক্ত বিপুল হোসেন বুদু জানালেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, অভিযোগ দিলেই কেউ দোষী প্রমাণিত হয় না। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত চলমান। এ ঘটনার সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত নই।
তার অভিযোগ, ঈশ্বরদীতে অনেকেই সরাসরি হত্যার আসামি রয়েছেন। প্রকাশ্যে তারা বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করছেন। প্রশাসন গ্রেপ্তারও করছে না।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, এ মামলার একজন আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেপ্তার করা হবে।





