সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩ প্রার্থী চূড়ান্ত জামায়াতের
- তফসিলের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- কোনো সিটিতে শরিকদের না ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত
- কাউন্সিলরসহ স্থানীয় পর্যায়ের ৭০-৭৫ শতাংশ প্রার্থীও চূড়ান্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৩টি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পর পর্যায়ক্রমে প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনের মতো জোটের সমীকরণে না গিয়ে নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তিতে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। আপাতত ঢাকাসহ কোনো সিটি করপোরেশন শরিক দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তবে শেষ মুহূর্তে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার দরজা খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুরে সাবেক শিবির নেতা ও শিক্ষাবিদ ড. হাফিজুর রহমান এবং বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কয়েকজন জানিয়েছেন।
এ ছাড়া রংপুরে মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, খুলনায় কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জে মহানগর শাখার আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, রাজশাহীতে মহানগরের নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সিলেটে মহানগরের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল এবং ময়মনসিংহে মহানগর শাখার সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে জামায়াত।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মজিবুর রহমান এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আ খ ম আব্দুল মালেককে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। রাজশাহী সিটিতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নাম এর আগেই প্রকাশ্যে এসেছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে জামায়াত। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থীও ঘোষণা করা হয়েছে। সময়মতো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম জানানো হবে।
আসন্ন সিটি নির্বাচনে তরুণদের প্রাধান্য দেওয়ার অংশ হিসেবে ভিপি সাদিক কায়েমকে মনোনীত করেছে জামায়াত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করা এ নেতাকে সামনে রেখে দক্ষিণ সিটিতে তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মেয়রপ্রার্থী হিসেবে লড়তে শিবিরের রাজনীতি থেকেও বিদায় নিয়েছেন এ ছাত্রনেতা।
সাদিক কায়েম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ছাত্ররাজনীতিতে আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ‘চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বড় পরিকল্পনা জুড়ে আমি ছিলাম। ডাকসুর ভিপি হিসেবে সফলতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছি। সব মিলিয়ে দল আমাকে এ জায়গায় যোগ্য মনে করেছে। এখন জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে চাই।’
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘নগরীর বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। নাগরিকদের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। নগরের মৌলিক সংকটগুলো কী কী এবং সমাধান কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলছি। এখন থেকে একটা পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। ইনশা আল্লাহ জনগণ আমার ওপর আস্থা রাখবে।’
অন্যদিকে প্রার্থী হওয়ার সবুজসংকেত পেয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ কিংবা ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন ঢাকা উত্তরের মেয়রপ্রার্থী সেলিম উদ্দিন। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা উত্তরের মানুষের জন্য কাজ করছি। নগরীর মানুষের জন্য ২০০-এর বেশি সেবা এরই মধ্যে চালু করেছি। ঢাকা শহর চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নগরীতে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান কীভাবে করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।’
জামায়াতের তরুণ মেয়রপ্রার্থীদের আরেকজন ড. হাফিজুর রহমান। দীর্ঘদিন তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এর আগে গাজীপুর-৬ আসন থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন করেননি। এবার মেয়রপ্রার্থী হিসেবে তাকে চূড়ান্ত করেছে জামায়াত।
মেয়রপ্রার্থী হিসেবে দলের পছন্দের তালিকায় থাকার প্রতিক্রিয়ায় ড. হাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘গাজীপুর দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী। নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবা জোরদারের পাশাপাশি একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের যানজট, তীব্র জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য সংকটের টেকসই সমাধান করাই আমার মূল লক্ষ্য।’ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, নতুন ঘোষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী প্রার্থীরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক ও যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সবার নাম প্রকাশ করা হবে।



