গ্যালারিতে মদ্যপান চালুর পক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিরোধিতায় পুলিশ

পুরুষদের ফুটবল ম্যাচে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দর্শকদের অ্যালকোহল বা মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। অন্যান্য খেলার সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো কড়াকড়ি না থাকায় ফুটবল সমর্থকদের এভাবে আলাদা করে নিশানা করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের পুরুষদের ফুটবলের শীর্ষ স্তরের ক্লাবগুলোতে মাঠের দৃশ্যমান জায়গায় (ইন-ভিউ অফ দ্য পিচ) বসে মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১৯৮৫ সালে মার্গারেট থ্যাচারের সরকার ফুটবল মাঠে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে এই আইন চালু করেছিল। তবে রাগবি লিগ বা ক্রিকেটের মতো অন্যান্য খেলায় গ্যালারিতে বসে পান করার ক্ষেত্রে এমন কোনো আইনি বাধা নেই।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে
যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই পুরোনো আইন পরিবর্তনের
ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ‘আমি মনে
করি ওই আইনটি এমন এক যুগের সঙ্গে সম্পর্কিত যখন ফুটবল পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।
এবং আমি বিশ্বাস করি এই বৈষম্য দূর করার উপযুক্ত সময় এসেছে। এটি পরীক্ষামূলকভাবেও করা
যেতে পারে। তবে আমি আমার দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছি না। ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে
এমন ভিন্ন আচরণ কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।’
ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) দীর্ঘদিন ধরে এই পুরনো আইন পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। এফএআইয়ের চেয়ারম্যান টম গ্রেটরেক্স প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, রাগবি ম্যাচ বা কোনো কনসার্টে বসে গ্যালারিতে পান করা গেলেও শুধু ফুটবল দেখার সময় সমর্থকদের অপরাধীর মতো আচরণ করাটা একেবারেই অনুচিত। এছাড়া নারী সুপার লিগে (ডব্লিউএসএল) সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর ক্লাবগুলোও এর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে।
তবে সরকারের এমন চিন্তাভাবনার তীব্র বিরোধিতা করেছে পুলিশ প্রশাসন। ইউকে ফুটবল পুলিশিং ইউনিটের এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, আইন পরিবর্তন করা হলে তা স্টেডিয়ামে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। পুলিশের মতে, ফুটবলে যেভাবে ছোট একদল দর্শকের মাঝে সহিংস আচরণের প্রবণতা দেখা যায়, তা অন্য কোনো খেলায় সচরাচর দেখা যায় না। পর্যাপ্ত প্রমাণ ও পুলিশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ছাড়া এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হবে বলে মত দিয়েছে পুলিশ।
ব্রিটিশ সরকারি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ‘বিবিসি স্পোর্টস’ জানিয়েছে যে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো নীতির ঘোষণা নয়। তবে ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলক বা পাইলট স্কিমের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘ চার দশক পর ইংলিশ ফুটবলের গ্যালারিতে পিন্ট হাতে প্রিয় দল সমর্থনের সেই পুরোনো স্বাধীনতা ফিরে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার।





