ঘরের মাঠে সাফ জয়ের স্বপ্ন ডুলির

ছবি: আগামীর সময়
নভেম্বরে ঢাকায় বসতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি। শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে সাফের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি টুর্নামেন্ট জেতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর পর সাফ শিরোপা ঘরে তোলার এই মিশনে ডুলি তার পরিকল্পনা এবং দলের মানসিকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। খেলা ছাড়ার পর দীর্ঘ চার বছর যুক্তরাষ্ট্র দলের সহকারী কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া ফিলিপাইন, গায়ানার মতো দলকে কোচিং করিয়েছেন। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নিজেকে ডুলি গড়ে তুলেছিলেন বিজয়ী মানসিকতায়। সেই ইতিবাচক মানসিকতাই বাংলাদেশ দলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন কোচ।
প্রীতি ম্যাচের চেয়ে যে কোন টুর্নামেন্ট খেলাকে তিনি গুরুত্বের শীর্ষে রাখতে চান এবং প্রতিটি ম্যাচেই জয় চান। প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ই তার একমাত্র চাওয়া, 'আমরা কার বিপক্ষে খেলছি তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা অন্য যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা যা আমাকে খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে যাতে তারাও একই কথা ভাবে।’
দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণ রয়েছে উল্লেখ করে কোচ জানান, প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব গুণ নিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার তাগিদ ফুটবলারদের দিয়েছেন কোচ, ‘আমরা এমন খেলা উপহার দিতে চাই যাতে দর্শকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে না যায়। তারা যাতে মুখ ফিরিয়ে না নেয়। তারা যাতে বলে, দল যে খেলাটা খেলে তা পছন্দ হয়েছে এবং আমি চাই যাতে দর্শকরা জয় নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরতে পারে।’
ঘরের মাঠে আট বছর পর সাফ খেলবে বাংলাদেশ। তাই শিরোপা জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ, ‘টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য? আপনার কী মনে হয়…? অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ফুটবলারদের কাছ থেকেও আমি একটাই বার্তা— মাঠে নেমে, নিজের যা আছে তার সবটুকু উজাড় করে দাও। এরপর যদি অন্য দল ভালো খেলে ফেলে বা জিতে যায় সেটা হবে আমাদের দুর্ভাগ্য। তার আগ পর্যন্ত নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। তবে এদের ভুল হতেই পারে। দর্শকদের প্রতি অনুরোধ, ভুল করলে কঠোর হবেন না। কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবল খেলে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করা ফুটবলাররাও ভুল করে।’
স্বাগতিক হওয়ার মূল সুবিধা নিজেদের দর্শক। থমাস ডুলি ভক্তদের প্রতি মাঠে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চান, ভক্তরা যেন মাঠে এসে দলকে উৎসাহিত করেন এবং গ্যালারিতে আওয়াজ তুলে প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করেন। ২৩ বছর ধরে যে স্বপ্নের শিরোপা জুটেনি, সেই খরা কাটাতে দলকে সেরা প্রস্তুতির সুযোগটা করে দিতে চান কোচ।
ডুলির এই অদম্য মানসিকতা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।





