জাজিরা
কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, দেড় লাখে রফাদফা!

অভিযুক্ত ব্যবসায়ী আতিক হাওলাদার
শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণিপড়ুয়া কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। কিশোরীটি সহজ-সরল প্রকৃতির হওয়ায় ধর্ষণ শেষে ভয়ভীতিও দেখান অভিযুক্ত ব্যবসায়ী। এদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় সালিশে দেড় লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে উঠেছে অভিযোগ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী সহজ-সরল হওয়ায় প্রায়ই বাড়িতে ডেকে নিতেন অভিযুক্ত তেল ব্যবসায়ী আতিক হাওলাদার। এ সময় তিনি মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় আনোয়ার চোকদার, আজিজুল চোকদার, বিলাসপুর ইউপি সদস্য জামাল খাঁ, হাকিম মাদবর, আশ্রাফ উদ্দিন, নাসির মাদবরসহ আরও কয়েকজন মিলে সালিশ বৈঠক করেন। বৈঠকে অভিযুক্ত আতিককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার দেড় লাখ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে দেওয়া হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার দরিদ্র এবং নিরীহ হওয়ায় তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তরা মীমাংসায় বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, আতিক প্রতিবন্ধী কিশোরীর সঙ্গে যে কাজ করেছে, তা খুবই জঘন্য। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে যারা সালিশ করেছেন তারাও অপরাধী।
ঘটনার বিষয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী কিশোরীর মায়ের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘ঘরে আমার ৪টা মেয়ে। একজনকে বিয়ে দিয়েছি। আরও তিনটা আছে। আমার এই মাইডার একটু মাথায় সমস্যা। আমরা গরিব মানুষ। এলাকার মুরুব্বিরা যা করছে, তাই আমরা মাইনা নিছি। এগুলা নিয়া আর ঝামেলা করতে চাই না।’
জানতে চাইলে সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া আনোয়ার চোকদার সালিশ-মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে বললেন, ‘আমাদের বংশের মেয়ে। ভবিষ্যতে বিয়ে দিতে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে বিষয়টি সমাধান করেছি।’
জানতে চাইলে সালিশে থাকা স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল খাঁ সালিশ-মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করে বললেন, সার্বিক দিক চিন্তা করে ভালো মন নিয়ে বিষয়টি সমাধান করেছি। এখন যা হওয়ার হোক।
ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য বিচার-সালিশ না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এরপরও তারা কেন এ ঘটনায় সালিশ করে মীমাংসা করলেন, তা জানতে চাইলে ইউপি সদস্য জামাল খাঁ বললেন, ‘এসব আমরা বুঝি না। আমরা যেটা ভালো মনে করেছি, তাই করেছি।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আতিক হাওলাদার কাছে জানতে গেলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে পালিয়ে যান। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুরের সভাপতি আইনজীবী মাসুদুর রহমান বললেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ। যেখানে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে ধর্ষণের ঘটনায় আপস-মীমাংসা করাও ফৌজদারি অপরাধ। অভিযুক্ত এবং সালিশ করা সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহাম্মদ বলেন, এমন কোনও ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। অভিযোগও পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





