পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল এনবিআর

ফাইল ছবি
স্ক্র্যাপ বা বর্জ্য পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পুনঃব্যবহারযোগ্য কোনো পণ্য আমদানি না করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের কাস্টমস নীতি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, দেশে কার্যকর আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯ এবং আগের আমদানি নীতি অনুযায়ী, প্রকৃত ব্যবহারকারী হিসেবে স্বীকৃত শিল্প প্রতিষ্ঠানই কাঁচামাল হিসেবে এইচএস হেডিং ৭২.০৪ এবং এর আওতাভুক্ত এইচএস কোডের ওয়েস্ট ও স্ক্র্যাপ আমদানি করতে পারবে।
এনবিআর জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু আমদানিকারক স্ক্র্যাপের ঘোষণা দিয়ে প্রকৃতপক্ষে পুনঃব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য বা লোহার সামগ্রী আমদানি করে আসছিলেন। এসব চালান কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটক করলে পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের কেউ কেউ হাইকোর্টে রিট করেন।
এ ধরনের দুটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেন, আমদানি নীতি আদেশের ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্ক্র্যাপের নামে পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্য আমদানির সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারির জন্য এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মৌখিকভাবেও এ বিষয়ে দ্রুত পরিপত্র জারির নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে এনবিআর।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এইচএস হেডিং ৭২.০৪-এর আওতাভুক্ত প্রকৃত স্ক্র্যাপ ছাড়া অন্য কোনো পুনঃব্যবহারযোগ্য পণ্যকে স্ক্র্যাপ বা বর্জ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশে আমদানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কেউ এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিআরের পরিপত্রটি দেশের সব কাস্টমস হাউস, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিএসএমএ) ব্যবসায়ী সংগঠন এবং কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে সতর্ক করার অনুরোধ করা হয়েছে।





