নগরীতে আবির্ভাব ঘটেছে মিথ্যে রাখাল বালকের, সালমানকে আবিদ

ভিডিও বার্তায় আবিদুল ইসলাম খান (বাঁয়ে), হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিও দেখাচ্ছেন সালমান (ডানে)।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে ‘মিথ্যে রাখাল বালক’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে গতকাল সোমবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ তুলেছেন, সালমান মুক্তাদির একের পর এক অসত্য তথ্য ও মনগড়া মতামত ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন।
আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, আমাদের এই নগরীতে একজন মিথ্যে রাখাল বালকের আবির্ভাব ঘটেছে।
ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, সালমান এর আগেও একটি বাসায় আগুন লাগার ঘটনায় নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছিলেন, যা পরে পুলিশি তদন্তে অসত্য প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে মনগড়া বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা পরে ডিএনএ পরীক্ষায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
ইসিবি চত্বরে সালমানের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন ছাত্রদলের এই নেতা।
তার ভাষ্য, সেখানে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সমর্থক দুটি পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলাটি সংগঠিত হয়েছিল। সেই হামলায় সালমানের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি প্রকৃত জড়িতদের আড়াল করে পুরো ঘটনাকে বিএনপির 'চাঁদাবাজি' হিসেবে ট্যাগ দিয়েছেন।
আবিদ উল্লেখ করেছেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্টুডিওর বিচারের দাবি গোটা জাতির তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি তিনিও সোচ্চারভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে সালমান মূলত 'সেলফ-প্রমোশনাল' কায়দায় সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেছেন। এতে দলটির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি জানালেন।
ছাত্রদলের এই নেতা আরও প্রশ্ন তোলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আইনি মামলা না করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন অভিযুক্ত ও খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সালমানের অনুসারী ও সাধারণ মানুষ তার এমন ভিত্তিহীন বক্তব্যে আস্থা হারিয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে মাঠে নামার কারণে সাধারণ মানুষ আপনাকে যে সম্মান ও বিশ্বাস দিয়েছিল, তা আপনি নিজেই ক্ষুণ্ন করেছেন।
এর আগে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও হামলাকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায় বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
ওই রাতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ওই ঘটনায় সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।









